স্মরণীয় এক অধ্যায়ের নাম নাহিদ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের গল্পে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটি ছিল নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের আগুনঝরা বোলিংয়ে এবার ঢাকা টেস্টে গুঁড়িয়ে গেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ৯.২ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৪০ রান খরচায় ৫ উইকেট। সংখ্যাটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের নাম।

মিরপুরের উইকেটে যেখানে আধিপত্য থাকার কথা ব্যাটসম্যানদের, সেখানে নাহিদ যেন গতির ঝড় তুললেন। তার প্রতিটি স্পেল ছিল পাকিস্তানি ব্যাটারদের জন্য আতঙ্কের নাম। নতুন বলে ধারাবাহিক লাইন-লেন্থ, শর্ট বলের ভয়ঙ্কর ব্যবহার আর ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন তিনি।

বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে নাহিদের আগ্রাসী বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তিনি পাকিস্তানকে বড় জুটি গড়ার স্বপ্ন থেকে ছিটকে দেন। তার শিকারের তালিকায় ছিলেন অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত ব্যাটাররাও। পাকিস্তানের মিডল অর্ডার যখন প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই নাহিদের তোপে ভেঙে পড়ে পুরো ইনিংস। তার শিকার অধিনায়ক শান মাসুদ (২), সৌদ শাকিল (১৫), রিজওয়ান (১৫), নোমান আলী (৪) ও শাহীন শাহ আফ্রিদি (০)।

এই পাঁচ উইকেট শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের পেস বোলিং ইতিহাসেও বড় এক মাইলফলক। দেশের মাটিেিত পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো পেসারের এটি অন্যতম সেরা বোলিং ফিগার। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে স্পিননির্ভর দল হিসেবে দেখা হলেও নাহিদ রানা দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশ এখন গতি দিয়েও ম্যাচ জেতাতে পারে।

মাত্র কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই তিনি নিজের সামর্থ্যরে জানান দিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তার গতি, আত্মবিশ্বাস ও আগ্রাসন নতুন প্রজন্মের পেস বোলিং সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। একসময় যেখানে বাংলাদেশের পেসাররা ধারাবাহিকভাবে ১৩০-১৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন, সেখানে নাহিদ নিয়মিত ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করছেন। শুধু গতি নয়, নিয়ন্ত্রণও ছিল অসাধারণ।

ম্যাচের পরিসংখ্যানেও নাহিদের আধিপত্য স্পষ্ট। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে নেয়া ৫ উইকেটের মধ্যে ছিল টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা। তার দুইটি মেডেন ওভার পাকিস্তানের রান তোলার গতি থামিয়ে দেয়। প্রতি উইকেট নিতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ৮ রান। এমন কার্যকর বোলিং আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটেও বিরল।

বাংলাদেশের ১০৪ রানের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, এটি আত্মবিশ্বাসের জয়, সাহসের জয়। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসার যেন ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন গতির যুগ শুরু হয়েছে। যে পাকিস্তান একসময় তাদের ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণের জন্য বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করেছে, সেই দলকেই এবার ঘরের মাঠে কাঁপিয়ে দিলো বাংলাদেশের এক তরুণ গতিদানব। নাহিদ রানা ঐতিহাসিক জয়ের প্রতীক। পেসার তাসকিনের অবদানও অনস্বীকার্য। দুই ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি সমান দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন।