ঝড়ের বেগে সাড়া পাচ্ছেন নাদের চৌধুরী
Printed Edition
বিনোদন প্রতিবেদক
নাদের চৌধুরী, একাধারে অভিনেতা ও পরিচালক। অভিনয় জীবনে তার পথচলা কয়েক দশক ধরে। তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি দেশ বিদেশের অগণতি দর্শকের কাছ থেকে এত এত ভালোবাসা পাবেন তা যেন তার কল্পনাতেও ছিল না। এরই মধ্যে প্রচার শেষ হলো এই সময়ে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত দর্শকপ্রিয় নাটক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকটি। নাটকটির শেষ পর্যায়ে এসে মারা যান বাবা চরিত্রে অভিনয় করা গুণী অভিনেতা নাদের চৌধুরী। তার মৃত্যুর মধ্যদিয়েই যেন নাটকটি আরেক ইতিহাস সৃষ্টি করল। তিনি মারা যাবার পর দেশে বিদেশে নাটকটি নিয়ে বেশ হইচই পড়ে যায়। তার বড় সন্তান চরিত্রে অভিনয় করা ইরফান সাজ্জাদ ও নাদের চৌধুরীর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করা মনিরা মিঠুর অভিনয়ও দর্শকের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরই মধ্যে গত মাসের টানা বিশ দিন আমেরিকাতে ছিলেন নাদের চৌধুরী। সেখানে গিয়েও তিনি নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন যা তার কল্পনাতেও ছিল না। নাটকটির প্রচার শেষ হলেও বিগত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই নাটক নিয়েই চলছে তুমুল আলোচনা। নাদের চৌধুরী বলেন, ‘সত্যিই এই নাটক নিয়ে বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি আমি। নাটকের শেষের দিকে আমার মৃত্যুর দৃশ্য প্রচার হবার পর গত কয়েক দিন ধরেই যেন একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ঝড়ের বেগের মতো সাড়া পাচ্ছি আমি। প্রিয়জন চলে যাবার পর মানুষের মনের মাঝে যে ঝড় ওঠে, নাটকে আমার চলে যাওয়ার মধ্যদিয়ে যেন তাই হলো। টানা কয়েক দিন ধরে ফোনে, ম্যাসেঞ্জারে এত এত মানুষের ফোন ম্যাসেজ যা আমাকে ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। সবাই আমার খোঁজ নিচ্ছেন আমি কেমন আছি। মানুষের এত ভালোবাসায় বারবার চোখে পানি চলে আসছে। আমার মৃত্যুদৃশ্য মানুষকে এভাবে কাঁদাবে, মানুষের মাঝে এত আলোড়ন সৃষ্টি করবে তা কল্পনাতেও ছিল না। মোস্তফা কামাল রাজের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, সত্যিই রাজ বাংলা নাটকে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আরেকটি কথা না বললেই নয় যে, এই নাটক দেশ-বিদেশে নতুন জেনারেশনকে টিভি সেটের সামনে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে, এই নাটক দেখার জন্য নতুন জেনারেশন টিভি সেটের সামনে বসে অপেক্ষা করেছে-এটা অনেক বড় অর্জন।’ ১৯৮৯ সালে টিভিতে প্রথম নাটকে অভিনয় করেন নাদের চৌধুরী। তবে ‘বারোরকম মানুষ’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘বিশ^নেত্রী’।