নিউজিল্যান্ডকে দুর্বল ভাবছেন না সিমন্স

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিমন্সের যুক্তি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবাই সেরা দলটাই পাঠায়। তাই এই দলকে দ্বিতীয় সারির দল হিসেবে গণ্য করতে নারাজ ক্যারিবীয় কিংবদন্তি। ‘আমি মনে করি না এটা ওদের দ্বিতীয় সেরা দল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো দলই তাদের সেরা দল। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড দল যেখানে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটে এরা সবাই প্রচুর খেলেছে। তাই তারা জানে কী করতে হবে। তারা অভিজ্ঞও। তাই দ্বিতীয় সারির দল বা এসব ভাবছি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন কিছু নেই।’

নিউজিল্যান্ডের বোলিং ইউনিট বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে জানিয়ে সিমন্স বলেন, ‘সব বোলারেরই ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ভারতে ভালো খেলেছে। তাই আমরা ধরেই রাখছি ওরা চাপ তৈরি করবে। তা নিয়ে আমরা কাজ করব।’

নিউজিল্যান্ড যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, ‘পাকিস্তানেরও তো কোয়ালিটি পেসার আছে। যেকোনো সিরিজই আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ। নিউজিল্যান্ডের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত। পাকিস্তানের জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং সফল হয়েছি। স্বাস্থ্যকর একটি প্রতিযোগিতার জন্য অপেক্ষা করছি।’

সৌম্যের জন্য সমবেদনা

নিউজিল্যান্ড সিরিজেও বোধহয় একাদশে সুযোগ হচ্ছে না সৌম্য সরকারের। টিম ম্যানেজমেন্ট এই সিরিজের জন্য ঠিক করে রেখেছে সাইফ-তামিম জুটি, যা দেখা গেছে সর্বশেষ সিরিজেও। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য সৌম্যকে কিছুটা দুর্ভাগাই মানছেন। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে নিজের সর্বশেষ ওয়ানডেতে ৮৬ বলে ৯১ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন সৌম্য। ঠিক তার আগের ম্যাচে করেছিলেন ৪৫ রান। এমন ক্রিকেটার কি না পাকিস্তান সিরিজে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি। এমনকি নিউজিল্যান্ড সিরিজেও ভাবনায় নেই। কারণ তানজিদ তামিমের সাথে সাইফ হাসানকেই আবারো ওপেনিংয়ে সুযোগ দেয়ার কথা ভাবছে দল। সিমন্স বলেন, ‘সৌম্য দারুণ। তবে আমাদের একজনকে বেছে নিতে হতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর বিপিএল ও বিসিএলের মাঝখানে অনেক দিন সে খেলায় ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে ভালো করেও খেলতে পারছে না। তবে সে চেষ্টা করছে।’

এ দিকে লিটন দাস মূলত ওপেনার হলেও দলের স্বার্থ বিবেচনা করে ওয়ানডে দলে খেলছেন চার নম্বরে। তাকে ঘিরেও টপ অর্ডার সংক্রান্ত আলাপ চলছে। যদিও সিমন্স জানালেন, একাদশ নিয়ে এখনও সেভাবে বসা হয়নি। তবে দলের প্রত্যেকেরই যেকোনো পজিশনে খেলার সামর্থ্য আছে।’

একই সাথে ব্যাটিংয়ে ঘাটতি ও উন্নতি নিয়ে সিমন্স জানান, ‘আমাদের সব ব্যাটারই তো মনে হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটে টপ অর্ডারে খেলে। মিরাজ হোক, অঙ্কন হোক, সবাইই তো দেখি টপ অর্ডারে খেলে। তবে জাতীয় দলে বিভিন্ন পজিশনে জায়গা করে নিতে হয় মানিয়ে নিতে হয়।’

যতœ নিতে হবে নাহিদ রানার

বিশ্ব ক্রিকেটে নাহিদ রানার দুর্দান্ত আবির্ভাবের পর মাঝখানে কিছুটা আলোচনার বাইরে চলে যান এই পেসার। অবশ্য চলমান পিএসএলে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে নতুন করে আলোচনায়। বর্তমানে অবশ্য পেস বোলারদের রোটেশন পলিসি চালু রয়েছে। পেসাররা স্বাভাবিকভাবেই একটু চোটপ্রবণ। তাদের যথাসম্ভব সুস্থ রাখতে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে খেলানোর রীতিও চালু হয়েছে। নাহিদ রানাকে নিয়ে ফিল সিমন্স সতর্ক করলেন, এই ক্রিকেটারকে যেন যতœ করে আগলে রাখা হয়, ‘নাহিদের লোড এর বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আধুনিক ক্রিকেটে প্রচুর খেলা। ও আমাদের ট্রাম্প কার্ড।’

তবে ফর্মের মতো অফ ফর্মও খেলোয়াড়ি জীবনের অংশ। যেমন সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিশাদ হোসেনের। সিমন্স মনে করিয়ে দিলেন, ২২ গজে দুঃসময় আসা মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। সে এখনও শিখছে। সব গ্রেট লেগ স্পিনারই দেখবেন অফ পিরিয়ড যায়।’ পর পর বিসিবির তিন সভাপতির বদল প্রসঙ্গে বলেন, এতে আমি অবাক হইনি।