যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চার্লস, ব্রিটেনের সাথে সম্পর্ক মেরামতে আশাবাদী ট্রাম্প
Printed Edition
বিবিসি
আগামী সপ্তাহে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলা। তাদের এই সফর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক মেরামতে পুরোপুরি সহায়ক হবে বলে আশা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার বিবিসির সাথে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।
রাজা চার্লসের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের তিক্ততা দূর হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই। তিনি (রাজা) একজন চমৎকার মানুষ। উত্তরটি অবশ্যই হ্যাঁ।’ ‘আমি তাকে ভালোভাবে চিনি। অনেক বছর ধরে চিনি। তিনি একজন সাহসী ও মহান মানুষ। তাদের আগমন নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে ট্রাম্পের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। ট্রাম্প বারবার স্টারমারের সমালোচনা করে আসছেন। তবে রাজা চার্লসের সফরকে তিনি এ সম্পর্ক মেরামতের এক ইতিবাচক সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে রাজা চার্লস ও রানী ক্যামিলার যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু হবে আগামী সোমবার। তারা হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।
ট্রাম্পের সাথে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করার পর চার্লস মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইদিনের সফরের পর তারা নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং বারমুডাতেও ভ্রমণ করবেন। বৃহস্পতিবার বিবিসির সাথে ৫ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, স্টারমার যদি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন তবেই পরিস্থিতি ‘ঘুরে দাঁড়াতে’ পারে। এর আগে ট্রাম্প গত সোমবার ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেয়ার সমালোচনা করে একে একটি ‘ভুল যাচাই’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
ওই পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প কী বুঝাতে চেয়েছেন জিজ্ঞেস করা হলে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘স্টারমার যদি উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলন শুরু করেন এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করেন, তবেই সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ আছে। অন্যথায়, তার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’ ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের বিপরীতে কিয়ার স্টারমার বিবিসিকে বলেন, ‘আমি অন্যের কথায় চলি না, ব্রিটিশ জনগণের জাতীয় স্বার্থ দেখেই সিদ্ধান্ত নিই। সে কারণে আমরা ইরান যুদ্ধে জড়াইনি। কে কী বলল তাতে আমি বিচলিত নই।’
ব্রিটেনসহ মিত্র দেশগুলো ইরান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘মিত্রদের সাহায্য আমার একেবারেই দরকার ছিল না। আমরা একাই ইরানের সামরিক বাহিনীকে গুঁড়িয়ে দিয়েছি। আমি আসলে তাদের পরীক্ষা করে দেখছিলাম তারা পাশে থাকে কি না।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি
এদিকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডিজিটাল পরিষেবা কর প্রত্যাহার না করলে ব্রিটেনের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প জানান, যুক্তরাজ্য যদি এই কর বহাল রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের পথে যেতে পারে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এই করের মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ব্রিটেন ২ শতাংশ হারে ডিজিটাল পরিষেবা কর চালু করে। এই করের আওতায় রয়েছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান- অ্যাপল, অ্যালফাবেটের গুগল এবং মেটার মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা পছন্দ করি না যখন তারা আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে। কারণ এগুলো আমাদের মহান আমেরিকান কোম্পানি, আমরা পছন্দ করি বা না করি, এগুলো বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি, এবং খুব সহজেই আমরা এর জবাব দিতে পারি যুক্তরাজ্যের ওপর বড় শুল্ক বসিয়ে। তাই তাদের সাবধান হওয়া উচিত। তারা যদি কর না তুলে দেয়, আমরা সম্ভবত বড় শুল্ক আরোপ করব।’