গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়নি
দুই বছরের শিশুকে নিয়ে বিপাকে দাদা-দাদী
Printed Edition
নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের নগরকান্দায় গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে ট্রাকচালক হান্নান শেখকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্তও কোনো মামলা হয়নি। এদিকে হান্নানের সন্তান দুই বছরের মুসলিমাকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তার দাদা-দাদি। জন্মের মাত্র ২১ দিনের মাথায় মুসলিমার মা ছোট্ট মুসলিমাকে ছেড়ে চলে গেলে বাবা হান্নানই ছিল তার একমাত্র ভরসা। এখন দুই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পুরোপুরি এতিম হয়ে গেল অবুঝ মেয়েটি। বৃদ্ধ দাদা-দাদিই এখন মুসলিমাকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। ছেলে হারানোর শোকের পাশাপাশি নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি দ্রুতগতির ট্রাক শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া বাজারের নতুন হাটখোলা এলাকায় কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘২০ জনকে চাপা দিয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন রাস্তা অবরোধ করে ট্রাকটি থামায় এবং চালক হান্নান শেখকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হান্নান শেখ উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর গ্রামের শহিদ শেখের ছেলে। এ ঘটনায় ট্রাকের দুই সহকারী নাঈম (২২) ও আল-আমিন (২৫) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হান্নান শেখের মৃত্যুর খবরে তার বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। সবচেয়ে করুণ অবস্থা তার দুই বছরের কন্যা মুসলিমা ইসলামের। স্বজনদের কান্না আর মানুষের ভিড়ের মধ্যেই কিছু না বুঝে কখনো দাদির কোলে, কখনো অন্যের কোলে ঘুরছে সে। ফিডারে দুধ খাচ্ছে, আবার হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মুসলিমার জন্মের ২১ দিন পরই তার মা আরিফা বেগম স্বামীকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে দাদা শহিদ শেখ ও দাদি নার্গিস বেগমই শিশুটিকে লালন-পালন করে আসছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে দাদি নার্গিস বেগম বলেন, “মা ২১ দিনেই চলে গেছে, এখন বাপও নাই। আমার মুসলিমার কেউ রইল না। আমি মরে গেলে এই বাচ্চার কী হবে?”