বন্দরের এনসিটিতে সাইফ যুগের অবসান : অপারেট করবে চবক
৫ জেটিতে পৃথক দরপত্রে অপারেটর নিয়োগের পরামর্শ ব্যবহারকারীদের
স্থান
চট্টগ্রাম
Printed Edition
অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) সাইফ পাওয়ার টেক যুগের আপাত অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ জুলাই বর্তমান অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) চুক্তির মেয়াদ বাড়াবে না। চুক্তির মেয়াদ শেষের পরপরই আগামী ছয় মাস চবক নিজেই এই টার্মিনাল পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। তবে দরপত্রের শর্তে যাতে আবারো সাইফ পাওয়ারটেকের নিয়োগের পথ প্রশস্ত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ বন্দর সংশ্লিষ্টদের।
এ দিকে এনসিটি টার্মিনালে বর্তমানে থাকা কি-গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং আইটি ব্যবস্থাপনা বাবদ পরিচালনায় মাসিক ৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। ফলে আগামী ছয় মাস এনসিটি পরিচালনার জন্য আনুমানিক ৪২ কোটি টাকা ব্যয় হবে বন্দর কর্তৃপক্ষের।
সূত্র জানিয়েছে, এই পরিমাণ সরকারি অর্থ খরচ করতে হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ওই ব্যয় অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য গত বৃহস্পতিবার এক চিঠির মাধ্যমে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি অপারেটরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে গত বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে ওই টার্মিনালটি চবক কর্তৃক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। যেহেতু নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার জন্য বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আমদানি-রফতানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চবক আপাতত নিজেই টার্মিনালটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয় বলে সূত্র জানায়।
এ দিকে এনসিটির অপারেটর নিয়োগে অতীতে সাইফ পাওয়ারটেককে কাজ দিতে এমন সব শর্ত জুড়ে দেয়া হতো যাতে অন্য কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে না পারে। সে জন্য এবার দরপত্রের শর্তারোপে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাদের মতে এনসিটির পাঁচটি জেটিতে পৃথক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ দিলেই কেবল সাইফ পাওয়ারটেকের কবল থেকে এই টার্মিনালকে মুক্ত করা সম্ভব।