সুদানে আরএসএফকে হটিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল সেনাবাহিনীর
Printed Edition
সুদানের সেনাবাহিনী খার্তুমে অবস্থিত দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে (আরএসএফ) হটিয়ে ভবনটির দখল নেয়ার এ ঘটনাকে উত্তর আফ্রিকার দেশটির সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ২০২৩ সালের এপ্রিলেই আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও খার্তুমের বেশির ভাগ অংশই দখলে নিয়ে নিয়েছিল।
সেনাবাহিনী এখন প্রাসাদের চার পাশে আরএসএফ সদস্যদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনীর একাধিক সূত্র। প্রাসাদ হাতছাড়া হওয়া প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে আরএসএফের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজধানী খার্তুমের কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় এখনো থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানিয়েছে।
সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের এ সঙ্ঘাত বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি করেছে বলে ভাষ্য জাতিসঙ্ঘের। তীব্র হতে থাকা এই মানবিক সঙ্কট এরই মধ্যে একাধিক এলাকায় দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে, দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে অনেক প্রাণঘাতী রোগ। সঙ্ঘাতে অংশ নেয়া দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। আরএসএফ কোথাও কোথাও গণহত্যা চালিয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। উভয়পক্ষই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ২০২৩ সালের এপ্রিলে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও খার্তুমের বেশির ভাগ অংশই দখলে নিয়ে নিয়েছিল; কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনাবাহিনী একের পর এলাকার পুনর্দখলে নেয় এবং নীল নদ সংশ্লিষ্ট প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে একটু একটু করে এগোতে থাকে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে আলাদা একটি সরকার গঠন করে আরএসএফ। তারা এখনো খার্তুমের বেশ কিছু অংশ, প্রতিবেশী ওমদুরমান ও পশ্চিম সুদানের অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তারা এখন দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ শক্তঘাঁটি আল-ফশিরের দখল পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজধানীর দখল পেলে সেনাবাহিনী সুদানের মধ্যাঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
উভয় বাহিনীই একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে, দু’পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার কোনো উদ্যোগও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি। বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়া আগে আগে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে দু’পক্ষের মধ্যে এই সঙ্ঘাত শুরু হয়।
সুদানে দুই বাহিনীর এ লড়াইয়ের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। দেশটির অনেক মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছেন। সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের বাসভবন পুনর্দখল করায় গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। তবে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হতে সময় লাগতে পারে।
দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাবিল আব্দেল্লাহ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাসভবন পুনর্দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে সেনারা। এ ছাড়া সেনারা আরএসএফের সদস্য ও যুদ্ধাস্ত্র ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাসভবন পুনর্দখলের পর সেনারা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন। এ ছাড়া এক সেনাকে মাটিতে সেজদা দিতে দেখা যায়।