স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল

সভাপতির ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্কুলে ভর্তিতে লটারি প্রথা বাতিল করা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই লটারি বাতিল করে সেখানে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা লটারি পদ্ধতি বাতিল করেছি। আগে থেকেই জানিয়ে দিলাম। তবে কী পদ্ধতিতে ভর্তি হবে সেটা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। তবে খুবই সাধারণ পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে পারে। শিক্ষায় বা ভর্তিতে লটারি, এটা তো একটি জুয়া খেলা, এটা কিভাবে পদ্ধতি হতে পারে? তাই সব দিক বিবেচনায় আমরা লটারি পদ্ধতি বাতিল করেছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি একদিন আগে সংসদে বলেছি অংশীজনদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কিভাবে ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে, সেটা বহাল রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেভাবেই হবে। লটারি কোনো সমাধান নয়। সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি আমরাই করেছিলাম ২০০১ সালে। আপনি যদি অন্য দেশের সাথে তুলনা করেন তাহলে দেখবেন তাদের বরাদ্দ এবং আমাদের বরাদ্দ কি এক? আমরা এসেই প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আরো কাজ আমরা করছি। এগুলো আলোচনায় আনতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। এ পদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় জন্যই এ নিয়ম থাকবে।

তিনি বলেন, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান বা প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বেসলাইন হবে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) ডিগ্রি। তবে শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকছি না; যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে আরো বিষয় বিবেচনায় নেয়া হবে। আমরা চাই যোগ্য ও দক্ষ মানুষদেরই এ কাঠামোর উচ্চতর স্তরে নিয়ে আসতে। এর আগে বিগত সরকারের সময় যে বিধান ছিল, সেখানে বলা হতো সিনিয়র শিক্ষক হতে হবে বা হেডমাস্টার হতে হবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সুযোগ সীমিত ছিল। আপনারা জানেন, তখন অনেক সময় নেপোটিজম ও ফেভারিটিজমের অভিযোগও উঠত এবং বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে আলোচিত হতো না। আমরা মনে করি, সেই ধারা থেকে বের হয়ে এসে সবার জন্য সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।