নিকলীবাসীর দুঃখ ২৭ কিলোমিটার সড়ক
Printed Edition
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের সাথে হাওর উপজেলা নিকলীর সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র মাধ্যম ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নিকলী-কিশোরগঞ্জ সড়ক। করগাঁও, গচিহাটা ও যশোদল হয়ে যাওয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন এই সড়কটি বর্তমানে চরম অবহেলিত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এটি এখন ‘নিকলীবাসীর দুঃখ’ হিসেবে পরিচিত।
১৯৯০ সালে রোদার পুড্ডা নদীতে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এরশাদ আমলে সড়কটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। বর্তমানে নিকলী ছাড়াও বাজিতপুর, কটিয়াদী ও সদর উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষ জেলা শহরে যাতায়াতে এই পথ ব্যবহার করেন। মাত্র ১২ ফিট প্রস্থের এই সরু সড়কে দু’টি বড় যানবাহন একসাথে পার হতে পারে না। তাছাড়া নিকলী বালিকা বিদ্যালয় মোড়, করগাঁও ও যশোদল বাজারসহ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উত্তর পাশের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৩ সালের পর সড়কটিতে বড় কোনো সংস্কার হয়নি। ঈদ এলে নামকাওয়াস্তে মেরামত করা হলেও কিছুদিন পর তা আগের রূপ নেয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা, সিএনজি এবং সিলেট-চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বহনকারী বাসের চালক আব্দুল মালেক জানান, প্রতিদিন তীব্র ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আনা-নেয়া করতে হয়।
সরকার নিকলীকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করায় বর্ষাকালে হাওরের সৌন্দর্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পর্যটক আসেন। কিন্তু সড়ক সরু হওয়ায় বর্ষায় প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন পুলিশ চেষ্টা করেও এই ভোগান্তি কমাতে পারছে না। সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সড়কটি জরুরি সংস্কার করে অন্তত ১৮ ফিটে প্রশস্ত করা হোক।