শেকড়ের টানে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ
Printed Edition
আমিনুল ইসলাম
শেকড়ের সন্ধানে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। প্রিয়জনের সাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে গতকাল বিকেল থেকেই শুরু হয় যাত্রা। ইফতারের পর রীতিমতো রূপ নেয় যানজটে। বিভিন্ন এলাকার গণপরিবহনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তালিকা অনুযায়ী সন্ধ্যার পর থেকে আরো বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন।
ঈদের ছুটি হিসেবে সারা দেশে সরকারি, আধা সরকারি অফিস-আদালতের শেষ কর্মদিবস ছিল গতকাল সোমবার। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সাত দিনের টানা ছুটি। তাই পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সোমবার অফিস শেষ করেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন অনেকে। ফলে দুপুর থেকেই রাজধানীর প্রায় সব সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে এই যাত্রায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। তারা বলছে, ঈদের সময় অনেক বেশি ঝামেলা হয়। ওই সব ঝামেলা এড়িয়ে চলতেই কিছুটা আগে-ভাগে রওনা করেছেন। এ দিকে ঢাকা থেকে ঈদ করতে গ্রামে যাওয়া প্রায় দেড় কোটি মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকার চার পাশের জেলা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত)।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, ধানমন্ডি, পল্টন, ফার্মগেট, মিরপুর রোড, শ্যামলী, উত্তরা, মহাখালী, বনানী, রামপুরা, বাড্ডা ও মালিবাগ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সারি। সব যানবাহনের বেশির ভাগই ঢাকামুখী নয় ঢাকা থেকে বের হওয়ামুখী। অনেক জায়গায় সিগন্যাল ছাড়লেও ধীরগতির কারণে গাড়ি এগোতে পারছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বা সিএনজিতে বসে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা।
শাহবাগে বেসরকারি চাকরিজীবী শামীম রেজা বলেন, অফিস থেকে বের হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে আছি। গাড়ি খুব ধীরে এগোচ্ছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও প্রচণ্ড ভিড়। অনেক যাত্রী আবার বাস না পেয়ে রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভর করছেন। ফলে এসব পরিবহনেও হঠাৎ ভাড়াও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুর থেকে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। অনেকেই আগেভাগে এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
গাবতলী বাস টার্মিনালের একজন কাউন্টার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টিকিটি বিক্রির তালিকা অনুযায়ী সোমবার দুপুর থেকে মূলত ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা এবং সেটিই হচ্ছে। কারণ অনেকে হয়তো অফিস একদিন ছুটি নিয়েছেন অথবা আধা বেলা অফিস করে রওনা করেছেন। কেউ কেউ শবেকদরের নামাজ বাড়িতে আদায় করে প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে চান। তাই আগেই রওনা হচ্ছেন। আবার অনেকে ঝামেলা এড়াতেও আগেভাগে যাচ্ছেন। তবে বড় একটি অংশ তাদের কাক্সিক্ষত তারিখের টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে আজকে রওনা হবেন।
এ দিকে ঈদের ছুটি উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার লোকাল বাসগুলো টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। দূরপাল্লার বাসগুলো সময় মতো টার্মিনাল ছেড়ে গেলেও ঢাকা থেকে বের হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। আবার যানজটের কারণে ঢাকায় প্রবেশের পর টার্মিনালে পৌঁছাতেও বেশ সময় লাগছে। শুধু গাবতলী নয়, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও ঘরমুখো যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখা গেছে। মহাখালী থেকে উত্তরা সড়কে দুপুর থেকেই তীব্র যানজটের চিত্র লক্ষ করা গেছে।
ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটির কারণে সোমবার থেকেই অনেক মানুষ একসাথে ঢাকা ছাড়ছেন। এ কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ নিরলস কাজ করছে, যেন যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে।