কাবরেরার সময়ে কতটা সফল ছিল জাতীয় দল
বাংলাদেশের পারফরম্যান্স
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঈদের ছুটি কাটাতে সবাই বাড়ি ফিরতে ব্যস্ত। অন্যরা শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় সময় পার করছেন। তখন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যদের ঈদে বাড়ি যাওয়ার কোনো সময় নেই। তাদের যে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে। ভিয়েতনামে ফিফা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দল ৩১ মার্চ এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে অংশ নেবে। সম্ভবত এটিই হবে কোচ হাভিয়ার কাবরেরার বাংলাদেশের হেড কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ। যদি বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটি তার সাথে চুক্তি নবায়ন করে তাহলে ভিন্ন কথা। সিঙ্গাপুর ম্যাচের পরই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই স্প্যানিশ কোচের সাথে চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও কাবরেরার ইচ্ছে লাল-সবুজদের দায়িত্বে থাকার।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাবরেরার সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে কতটা উন্নতি হয়েছে- এটা সত্য গত কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবল ফিফার সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ে অবস্থান করছে। এখন তাদের ফিফা র্যাংকিং ১৮০। অথচ ১৯৭ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল এর আগে। ভালো খেললে র্যাংকিংয়ে উন্নতি হবে। জিতলেও তাই। তবে সেই অর্থে আর তেমন কোনো অর্জন নেই কাবরেরার সময়ে। ২০২৩ সালে তার কোচিংয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল সাফের সেমিফাইনালে উঠেছিল। অনেক দিন পর টানা সাফে টানা দুই ম্যাচে জিতেছিল। এটাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যেখানে বাংলাদেশ আগেই অর্থ্যাৎ ২০০৩ সালের সাফে চ্যাম্পিয়ন সেখানে এই সেমিফাইনালে খেলাটা অতো বড় কিছু নয়।
তার সময়ে বাংলাদেশ ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়েছে। যা বাংলাদেশের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়। এই ভারতের সাথে এবারের এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করে আসে। এরপর হংকংয়ে গিয়ে সেখানেও পিছিয়ে পড়ে পরে ম্যাচ ১-১-এ সমতা আনে। এ দু’টিও সাফল্য। তবে মূল যে লক্ষ্য ছিল এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠা। সেখানে চরমভাবে ব্যর্থ। বাংলাদেশ এবার হংকং, সিঙ্গাপুর এবং ভারতের মতো ধরা ছোঁয়ার মধ্যের টিমকে পেয়েও কোয়ালিফাই করতে পারেনি। বিশেষ করে হোম ম্যাচে হংকং ও সিঙ্গাপুরের কাছে হারেই সবশেষ হয়ে গেছে। এই ব্যর্থতার দায় অবশ্যই কোচ কাবরেরাকে নিতে হবে। তার খেলোয়াড় সিলেকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত দিন বাংলাদেশ দল জামাল ভূঁইয়া ও তারিক কাজীদের সাথে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে এসেছিল। এবার সেই দলে আরো প্রবাসী। হামজা চৌধুরীর মতো ইংলিশ লিগে খেলা ফুটবলার। রয়েছে কানাডা এবং ইতালিতে খেলা শমিত শোম ফাহামিদুল। নতুন করে যোগ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জায়ান আহমেদ। এর পরও কোয়ালিফাই করতে না পারার ব্যর্থতা কোচেরই।
২০২২ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর কাবরেররা অধীনে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে। এর বাইরে আনঅফিসিয়াল ম্যাচও ছিল। এই ৩৭ ম্যাচের মধ্যে জামাল ভূঁইয়াদের জয় মাত্র ১০টিতে। হার এর দ্বিগুণ অর্থাৎ ১৭ খেলায়। আর ড্র ১০। এই জয়গুলো এসেছে ভারত, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া, ভুটান, সেশেলসের বিপক্ষে। ড্র করা প্রতিপক্ষ হলো- লেবানন, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া , ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ।
তার বাংলাদেশ পর্ব শুরু হয়েছিল মালদ্বীপের কাছে হার দিয়ে। এরপর দুর্বল মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে সিলেটের মাঠে গোলশূন্য ড্র করা। কাবরেরার সময়ে হাই র্যাংকিং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ড্র হলো- ইন্দোনেশিয়া, ভারত, হংকং, লেবানন, আফগানিস্তানের সাথে। অবশ্য মালদ্বীপ, নেপাল ভুটান এই দলগুলোও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল র্যাংকিংয়ে। এই স্প্যানিশ কোচের সময়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়ার সাথে ০-৭ গোলে, ফিলিস্তিনের সাথে ০-৫ গোলে এবং মালয়েশিয়ার কাছে ১-৪ গোলে। প্রথম দু’টি ছিল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ। আর মালয়েশিয়ার সাথে ম্যাচটি ছিল এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব।