চিরির বন্দরে কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে আদর্শ বীজতলা
Printed Edition
আফছার আলী খান চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
প্রযুক্তিগত সহায়তায় আধুনিক কৃষির সাথে তালমিলিয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এগিয়ে যাচ্ছে ধান চাষ। এতে লাভবান হচ্ছেন এলাকার উদ্যমী কৃষকেরা। কৃষি উৎপাদনে খরচ কমানো ও মানসম্মত চারা পাওয়ার কার্যকর একটি পদ্ধতি হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আদর্শ বা কমিউনিটি বীজতলা। শীত ও কুয়াশার প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আদর্শ বীজতলা তৈরি করে ইরি-বোরো ধান রোপণে ভালো সাড়া পাচ্ছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, আদর্শ বীজতলা ব্যবস্থায় শ্রম, জমি ও সেচ খরচ তুলনামূলকভাবে কম লাগে। এতে ধান উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে। ফলে সনাতন পদ্ধতির বীজতলার পরিবর্তে কৃষকেরা ঝুঁকছেন এই আধুনিক পদ্ধতির দিকে। বর্তমানে শীতের প্রভাব থেকে বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে, যা চারাকে কোল্ড ইনজুরি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে শুকনা জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়। এরপর ১ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে বেড তৈরি করে প্রতিটি বেডের মাঝে ৫০ সেন্টিমিটার নালা রাখা হয়। মানসম্মত বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে ছিটিয়ে দিলে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে চারা রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে। নশরতপুর, সাঁইতাড়া ও আব্দুলপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা জানান, পুরনো পদ্ধতিতে বীজতলায় পোকামাকড়ের আক্রমণ ও শীতকালীন রোগবালাই বড় সমস্যা ছিল। আদর্শ বীজতলায় এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে। নশরতপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম বলেন, এই পদ্ধতিতে পানি নিষ্কাশন সহজ হয়, আলো-বাতাস চলাচল ভালো থাকে এবং চারা হয় সুস্থ ও সবল। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে। সুস্থ চারা উৎপাদন, বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলা এবং ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা আদর্শ বীজতলার দিকে ঝুঁকছেন।