মির্জা ফখরুল-ইইউ রাষ্ট্রদূত বৈঠক

নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition
1st-2
বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার : নয়া দিগন্ত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। গতকাল বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সবাই ধরেই নিয়েছে ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অনেকে বলছে ডিসেম্বর অনেক দেরিতে। কিন্তু তারপরেও ডিসেম্বর ‘কাট অফ টাইম’ হিসেবে ধরে নিয়েছে সবাই। সবার ধারণা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হলে আমরা সঠিক পথে থাকব। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমরা ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি। সেটা ফিরিয়ে দেয়ার একমাত্র মাধ্যম নির্বাচন।

আমীর খসরু বলেন, মাইকেল মিলারের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক, বৈদেশিক সম্পর্কের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। রাজনীতির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন এবং সংস্কারের জন্য যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে-এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সংস্কারের যে বিষয়গুলো ঐকমত্য হবে, সে বিষয়গুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যে বিষয়গুলো ঐকমত্য হবে না সেগুলো সাংবিধানিক হোক, আর নির্বাচনী হোক তা আগামী নির্বাচনে প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার। জনগণের মতামত নিয়ে এসে সংসদে আলোচনা হবে, তর্ক হবে, বিতর্ক হবে তারপর সংসদে পাস হবে। বৈঠকে আলোচনা এইভাবেই হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে সবাই ভাবছে যে নির্বাচন কবে হবে, কবে দেশে গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আসবে। দেশে একটি সরকার আছে কিন্তু এখনো গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আসেনি। সেটা না আসলে, জনগণ সমর্থিত একটা সরকার ব্যতীত কোনো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পুলিশ সাপোর্ট দিয়ে সেটা দাঁড়াতে পারবে না। সেটা আমরা লক্ষ করছি।

ইইউতে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আগামী দিনের ইইউর সাথে আমাদের কর্মপন্থা কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বর্তমানে নির্বাচন এবং সংস্কার নিয়েও সহযোগিতা করতে রাজি আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হবো, সেই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। বিভিন্ন পার্টির বিভিন্ন চিন্তা, বিভিন্ন দর্শন রয়েছে। সবাই যদি মনে করে সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে তাহলে এত রাজনৈতিক দলের দরকার নাই। বাকশাল নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু আমরা তো আবার বাকশালেও ফিরে যেতে চাই না। যেখানে ঐকমত্য হবে, সে বিষয়গুলো সমাধান করতে পারব ইমিডিয়েটলি।