ফরচুন মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্টে আবারো আওয়ামী দুর্বৃত্তদের থাবা!

শঙ্কিত ব্যবসায়ী ও ফ্ল্যাট মালিকরা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির নাম ব্যবহার করে রাজধানীর মালিবাগের ফরচুন মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্টে আবারো আওয়ামী দুর্বৃত্তদের থাবার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ফ্ল্যাট মালিকরা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শহীদ কমিশনারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের প্রভাব খাটিয়ে মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্ট কমিটি দখলে রেখেছিলেন নাসির উদ্দিন দুলাল ও তার সহযোগীরা। তাদের অনিয়ম, দখল, লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও ফ্যাট মালিকরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে ফরচুন মার্কেট ও এপার্টমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যান নাসির উদ্দিন দুলাল। নানা অনিয়ম ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয় সব পদ থেকে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি ফেনীর একজন বিএনপি নেতার ভাইয়ের নাম ব্যবহার করে আবারো অবৈধভাবে মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সেই দুলাল।

ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যমতে, দীর্ঘদিন কোরিয়ায় থাকার পর ২০০৬ সালে দেশে ফেরেন ইসমাঈল প্রধানীয়া। এর পর পশ্চিম মালিবাগ ৪১ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়কে থাকা ফরচুন শপিং মল ও অ্যাপার্টমেন্টে দু’টি দোকান ও একটি ফ্ল্যাট কেনেন। তিনি মার্কেট এবং অ্যাপার্টমেন্ট উভয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এরই মধ্যে নানা আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে এক বছর আগে নাসির উদ্দিন দুলাল নামে একজনকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই দুলাল আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে পুরো মার্কেটে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। হাতিয়ে নিয়েছিলেন কয়েক কোটি টাকা। তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক টাকা খরচ করেন।

এই দুলাল চক্রের অন্যতম সদস্য মামলাবাজ সাইফুল বাহার ওরফে হাত কাটা বাহার। কিন্তু ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার বিজয় হলে মুহূর্তেই ভোল পাল্টে ফেলেন দুলাল ও বাহার। ছাত্র-জনতার পক্ষের লোক সেজে হত্যার অভিযোগ এনে ভাটরা থানায় একটি মামলা দায়ের করান। মামলায় অন্যদের সাথে আসামি করা হয় ইসমাঈল হোসেন প্রধানীয়াকে। আসামি করার সময় প্রধানীয়াকে দেখানো হয় রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আরমান হোসেন রিমন। ওই মামলায় প্রধানীয়াকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। তাতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূলত ফরচুর শপিং মল ও অ্যাপার্টমেন্টের আর্থিক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারি, প্রতারণা জালজালিয়াতির কারণে নাসির উদ্দিন দুলালকে বহিষ্কার করা হয়। এর পরই ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের অ্যাকটিভ সদস্যদের ১১ জনকে তার চক্রের মাধ্যমে ২৮টি মিথ্যা মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, সাইফুল ইসলাম ওরফে বাহার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী/এমপিদের সাথে সখ্যতা রেখে নিজ বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এবং রাজধানীতে বাদি হয়ে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন। তিনি এতটাই ধূর্ত যে, মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আদালতের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত করে ফাইল গায়েব করে দিতেও পিছপা হন না। দুলাল চক্রের আনাগোনার কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ফরচুন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা। তারা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে বিগত বছরগুলোতে নানা ধরনের অনিয়ম লুটপাট ভয়ভীতির শিকার হয়েছিলেন। এসব নিয়ে একাধিক মামলা জিডিও করেছিলেন তারা। এমনকি দুলাল চক্রের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই দুলাল ও বাহারের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন থানা ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। সেই ভয় নতুন রূপে আবার ফিরে আসলে চরম বিপদে পড়বেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে জানতে নাসির উদ্দি দুলালের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।