প্রকৃতির অপার সম্ভাবনা মিরসরাই থমকে আছে পর্যটন!

Printed Edition
bangla-8
উপকূলে বনাঞ্চলের পাশে হরিণ চরে বেড়াচ্ছে : নয়া দিগন্ত

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

মিরসরাইয়ের পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে আসা ঝরনার পানি, আঁকাবাঁকা হ্রদ, আর সমুদ্রসৈকতের নীল জলরাশি; এমন দৃশ্য খুব কম জায়গায় পাওয়া যায়। পাহাড়ি বনাঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো মায়া হরিণ, শিয়াল বা বন মোরগের দেখা মিললে পর্যটকের মুগ্ধতা আরো বেড়ে যায়। অল্প সময়েই প্রকৃতির বৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটনশিল্প কাক্সিক্ষতভাবে বিকশিত হয়নি। দূর-দূরান্ত থেকে সৌন্দর্যের টানে আসা পর্যটকরা আবাসন ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে সুবিধা পাচ্ছেন না। উপজেলায় পর্যটনবান্ধব অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বর্ষা থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও বর্ষায় ঝরনাগুলোতে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই পর্যটকরা শীত মৌসুমকে ট্রেকিং ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য বেছে নেন।

মহাসড়কের পূর্ব পাশে পাহাড়, ঝরনা ও হ্রদ, আর পশ্চিমে সমুদ্রসৈকত। উত্তরে বহমান নদী। পাহাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, বন্য প্রাণীর ছোটাছুটি, পাখির কলতান উপভোগ করা যায়। সমুদ্রসৈকতে নৌকা, লাল কাঁকড়ার খেলা ও সাগরের গর্জন পর্যটকের চোখে রাখে অবাক করা নৈসর্গিক দৃশ্য।

মিরসরাইয়ে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া, মুহুরী সেচ প্রকল্প, হিলসডেল মাল্টি ফার্ম ও মধুরিমা রিসোর্ট, করেরহাট ফরেস্ট ডাকবাংলো, আরশিনগর ফিউচার পার্ক, ডোমখালী ও মিরসরাই শিল্পনগর সমুদ্রসৈকত, সোনাইছড়ি, বাওয়াছড়া ও হরিণাকুণ্ড ঝরনাসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র।

জানা গেছে, মহামায়া ইকোপার্ক গত বছর দুই কোটি ২৫ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা পেয়েছে। কিন্তু ঝরনা ও হ্রদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বরাদ্দ থাকলেও সুষ্ঠু তদারকি নেই। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকরা দুর্ঘটনার শিকার হন। পাঁচটি ঝরনার ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বিপজ্জনক স্থান চিহ্নিত করা, লাইফ জ্যাকেট বৃদ্ধি ও সতর্কতামূলক ব্যানার দেয়া হয়েছে, কিন্তু পর্যটকরা নির্দেশনা না মানায় দুর্ঘটনা ঘটে।

মিরসরাইয়ের বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্র ও বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটক আসেন। আবাসন সঙ্কটের কারণে বড় অংশকেই দিনেই ফিরতে হয়। পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উপব্যবস্থাপক শেখ মেহেদী হাসান বলেন, প্রাকৃতিক ও প্রতœতাত্ত্বিক পর্যটনকেন্দ্রগুলো সহজে পর্যটকদের আকর্ষণ করে, কিন্তু আদর্শ পর্যটন কেন্দ্রের মৌলিক শর্ত যেমন আবাসন, নিরাপত্তা ও পেশাদার গাইডের অভাব রয়েছে।

মিরসরাই ইউএনও সোমাইয়া আক্তার বলেন, উপজেলার পর্যটনশিল্পকে সমৃদ্ধ করতে বন বিভাগ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ইজারাদার ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সাথে মিলিতভাবে কাজ চলছে। পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে।