ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই : গোলাম পরওয়ার

এরশাদ আলী, খুলনা ব্যুরো
Printed Edition
back-2
খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল খুলনা মহানগরী জামায়াত আয়োজিত নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে একটি অভিজাত হোটেলে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যেসব মানুষ, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন, জেলে গেছেন, তাদের সবার ত্যাগ আল্লাহ পাক কবুল করুন এবং সবাইকে উপযুক্ত জাজা দান করুন। মুক্তি অর্জন করতে হলে অবশ্যই সংগ্রাম করতে হবে। বিনা সংগ্রামে কখনো মুক্তি আসে না। এ জন্য তিনি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা মহানগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকতে হবে। কুরআনের সমাজ কায়েমের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আবদুল খালেক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. হারুনার রশীদ খান, সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার প্রমুখ। ইফতার মাহফিলে মুসলিম উম্মাহ ও দেশ জাতির কল্যাণ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ন ম আবদুল কুদ্দুস।

‘আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার জন্য আমানত রক্ষা করা দরকার’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ বলেছেন, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর অন্যতম কাজ হচ্ছে ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ। এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জামায়াত তার সব পর্যায়ে যে ফান্ড গঠন করে থাকে তাকে বাইতুলমাল বলে। বাইতুলমাল সংগঠনের মেরুদণ্ড। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বায়তুলমাল প্রয়োজন। সংগঠনের প্রত্যেক স্তরে বাইতুলমাল থাকবে। প্রত্যেক স্তরের সংগঠন সরাসরি সেই বাইতুলমাল থেকে খরচ করবে।

তিনি আরো বলেন, জামায়াত কর্মীদের কাজ আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার জন্য আমানত রক্ষা করা।

গতকাল শুক্রবার বায়েজিদ থানা জামায়াতে ইসলামীর বাইতুলমাল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন।

বায়েজিদ থানা জামায়াতের আমির মাওলানা জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে স্থানীয় এক মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রোগ্রামের বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইতুলমাল সম্পাদক ডা: মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান। এতে দারসুল হাদিস পেশ করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুহাদ্দিস মাওলান মাহবুবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- থানা নায়েবে আমির মাওলানা ফজলুল কাদের, থানা সেক্রেটারি মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মাওলানা মুনিরুল ইসলাম, মুহাম্মদ নুরুল আলম, আবুল হাশেম, আবু হানিফ দুলাল প্রমুখ।