ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উদ্বোধন ১ জানুয়ারি
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্টল ও প্যাভিলিয়নের কারিগররা
Printed Edition
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পূর্বাচল উপশহরে মাসব্যাপী বসছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ)। বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিফ এক্সিবিশন সেন্টারে এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের এ মেলার আয়োজন করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার আন্তর্জাতিক শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘ঢাকা বাণিজ্য মেলা, নাম রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ইপিবি কার্যালয়ে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পরে বাণিজ্যমেলার স্টিয়ারিং কমিটির এ প্রস্তাব টেকেনি। তাই মেলার নাম থাকছে আগের মতোই।
বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। এ সময় ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) আব্দুর রহিম খান ও ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার উপস্থিত ছিলেন। সচিব বলেন, এবারের বাণিজ্যমেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল/ প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় ই টিকিটিং (অন-স্পষ্ট টিকিট ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট ক্রয়পূর্বক কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সার্ভিস।
এবারের বাণিজ্যমেলায় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। বিদেশী উদ্যোক্তা / প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে ইলেকট্রনিক ও ফার্নিচার জোন। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিটিং কর্নার। শিশুদের বিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে দু’টি শিশুপার্ক ও উত্তর-পশ্চিম পাশে মসজিদ / নামাজঘর স্থাপন করা হয়েছে। মেলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে প্রিমিয়ার রেস্টুরেন্ট/ প্রিমিয়ার মিনি রেস্টুরেন্ট /ও কফিশপ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ও মেলায় এক্সিবিশন সেন্টারের ভিতরে ৫০০ আসনবিশিষ্ট একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। মহিলা, প্রতিবন্ধী, কুটির শিল্প, হস্তশিল্পের উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাঁচ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং ছাড়াও ছয় একর জমিতে বিস্তর পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাণিজ্যমেলায় পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। ২০২২ সাল থেকে রূপগঞ্জ পূর্বাচল উপশহরে চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্টল ও প্যাভিলিয়নের কারিগররা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে হাতুড়ি-পেরেকের টুংটাং শব্দ। শ্রমিকদের ব্যস্ত ছোটাছুটি। লোহার ফ্রেমে ঝালাইয়ের কাজে সময় পার করছেন তারা। মেলায় নিজ নিজ স্টল সাজানোর জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।
স্টলের কাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। থেমে নেই প্যাভিলিয়নের রঙ, আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জার কাজ। উদ্বোধনের আগেই সব ধরনের স্টলের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। শিশুদের জন্য দু’টি শিশুপার্ক রাখা হয়েছে। মেলায় নকল ও নি¤œমানের পণ্য রোধে কড়া নজরদারি থাকবে।
এবারের মেলায় দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ মেলায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’, যেখানে দর্শনার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রার নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন। মেলার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে বিশেষ বিআরটিসি ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে। ফার্মগেট থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ভাড়া ৭০ টাকা, কুড়িল-বিশ্বরোড থেকে ৪০ টাকা, চাষাঢ়া থেকে ১২০ টাকা, মুক্তারপুর থেকে ১৩০ টাকা, নরসিংদী থেকে ১০০ টাকা। পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং সেবাও ব্যবহার করা যাবে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব তরফদার সোহেল রহমান, মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে কাটতে পারবেন টিকিট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে গেট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে থাকবে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক। দর্শনার্থীদের বসার জন্য থাকবে তিনটি সিটিং জোন। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য থাকবে বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক বুথ। থাকছে একটি পুলিশ ক্যাম্প।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, মেলায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯ শতাধিক পুলিশ। থাকবে একাধিক মোবাইল টিমসহ বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট।