গ্রিনল্যান্ডে নতুন ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

Printed Edition

বিবিসি

আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে গ্রিনল্যান্ডে তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে ডেনমার্কের সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক মাস ধরে চলা এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার কৌশল হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া উচিত। এ মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কোনো প্রসঙ্গ নেই। বরং ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেন বিদ্যমান নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যেই সমঝোতার চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আলোচনা চলছে, যদিও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে বলে তারা আশাবাদী। ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে সংবেদনশীলতার কারণে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নতুন ঘাঁটিগুলোকে বিশেষ প্রশাসনিক মর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি মূলত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হবে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী কৌশলগত সামুদ্রিক করিডোর জিআইইউকে গ্যাপ।

সম্ভাব্য স্থানগুলোর মধ্যে নারসারসুয়াকের নাম আলোচনায় রয়েছে। সেখানে আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো অবকাঠামো ব্যবহার করা হলে নতুন ঘাঁটি দ্রুত ও কম ব্যয়ে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সক্রিয় ঘাঁটি রয়েছে- পিটুফিক স্পেস বেস। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে প্রায় ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছিল। বর্তমানে এটি ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও মহাকাশ নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল নিডহ্যাম। তার লক্ষ্য হলো এমন একটি সমঝোতা তৈরি করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ পূরণ করবে এবং একইসাথে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা উদ্বেগও বিবেচনায় রাখবে।