পঙ্গু রানা মিয়া ও তার পরিবারের মুড়ি খেয়ে দিন কাটে

Printed Edition

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু রানা মিয়া এখন চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করছেন। এক সময় গাজীপুরের শ্রীপুরে ফলমূল ও শাকসবজির আড়ৎ চালিয়ে সচ্ছল জীবনযাপন করলেও বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। কখনো কখনো শুধু মুড়ি খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের পোল্লাকান্দী গ্রামের বাসিন্দা রানা মিয়ার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে ২০২৫ সালের ১৪ জুন। রাজশাহী থেকে আম বোঝাই ট্রাক নিয়ে মাওনার পথে ফেরার সময় কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের পর তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।

দুর্ঘটনার আগে রানা মিয়ার আড়ৎই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয়ে সঞ্চিত সব অর্থ শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে তার স্ত্রী উর্মি আক্তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফলে পরিবারটি আরও সঙ্কটে পড়ে।

বর্তমানে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে পড়াশোনা করছে। আয় না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো টানা দুই দিন শুধু মুড়ি খেয়েই থাকতে হয়েছে বলে জানান রানা মিয়া।

স্থানীয়দের সহায়তায় দেওয়ানগঞ্জ বাজারে একটি ছোট চায়ের দোকান চালু করা হলেও সেখানে দৈনিক বিক্রি মাত্র ২০০-৩০০ টাকা, যা দিয়ে ভাড়া ও সংসার চালানো সম্ভব নয়। নিজস্ব ঘর না থাকায় অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি।

রানা মিয়া একটি উন্নত মানের কৃত্রিম পা ও আর্থিক সহায়তা চান, যাতে আবার কাজ করে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।