ট্রাম্পকে সরাতে ভ্যান্সের নেতৃত্বে কমিশন গঠনের দাবি ডেমোক্র্যাটদের
Printed Edition
দ্য গার্ডিয়ান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদ থেকে অপসারণের লক্ষ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জেমি রাসকিন গত মঙ্গলবার এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই দাবি জোরালো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইরানের প্রতি তার কড়া হুঁশিয়ারি, যেখানে তিনি জানান, দাবি না মানলে দেশটির ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে যিশুখ্রিষ্টের আদলে চিত্রিত করে ছবি প্রকাশের ঘটনাটিও ডেমোক্র্যাটরা তার অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনানসহ ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারা যুক্তি দিচ্ছেন যে, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা ও আচরণ দেশ পরিচালনার উপযুক্ত নয়। তারা চাচ্ছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাথে নিয়ে সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। তবে এর জন্য কমিশনকে প্রথমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, ট্রাম্প আসলেই দায়িত্ব পালনে অক্ষম।
রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার ওপর জনমনে আস্থা নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। তিনি পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন, কংগ্রেসের যুদ্ধ ক্ষমতা লঙ্ঘন করে মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছেন, ক্যাথলিক চার্চের পোপকে আক্রমণাত্মকভাবে অপমান করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে যিশুখ্রিষ্টের মতো চিত্রিত শিল্পকর্ম পোস্ট করছেন। রাসকিন আরো বলেন, ‘আমরা এক বিপজ্জনক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছি। ক্রমবর্ধমান অস্থির ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করতে ২৫তম সংশোধনীর অধীন কংগ্রেসের দায়িত্ব পালন করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ অন্য ৫০ জন ডেমোক্র্যাট হাউজ আইনপ্রণেতা এই বিলে সহপৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউজে এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, সেখানে কিছু সদস্য প্রেসিডেন্টের নীতির বিরোধিতা করলেও তার কার্যক্ষমতা নিয়ে তেমন কোনো গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেননি।
সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কীভাবে মরে যাওয়া বা পদত্যাগ করা একজন প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট তার ‘ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষম’ বলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি মনে করেন, তবে তারা প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন।