সংশোধনের পরও সূচকের উন্নতি ধরে রাখল পুঁজিবাজার
এসইএমএল লেকচার ফান্ড বে-মেয়াদিতে রূপান্তর হচ্ছে
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সূচকের টানা উন্নতির পর স্বাভাবিক সংশোধনের মুখে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। রোববারের বড় পতনের পর পরবর্তী দুই দিনে সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। এ সময় ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক ২৮০ পয়েন্টের বেশি বাড়ে। এর আগে রোববার সূচকটি ২০৮ পয়েন্ট হারায়। পরবর্তী দুই দিনের বড় উত্থানের পর গতকাল স্বাভাবিক সংশোধন দেখা গেলেও দিনশেষে দুই বাজারই সূচকের আংশিক উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় বাজারে সাময়িক সংশোধন এলেও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ছিল ইতিবাচক।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই দুই বাজার বড় ধরনের বিক্রয়চাপে পড়ে। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে প্রধান সূচক ৫০ পয়েন্টের বেশি হারায়। তবে দ্রুতই সেই চাপ সামলে নেয় বাজার। দিনের বাকি সময়েও কয়েক দফা বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হলেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বাজার স্থিতিশীল থাকে। দুপুর ১২টার দিকে সূচক বেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছলেও শেষ দিকে আবার কিছুটা বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দিনশেষে সূচকের অর্জিত অংশের একটি অংশ হারায় বাজার।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকের আচরণ ছিল মিশ্র। বাজারটির প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে দিনশেষে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৯২ দশমিক ১৯ পয়েন্টে। দিন শুরু হয়েছিল ৫ হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট থেকে। ডিএসইর বিশেষায়িত সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ৮১ পয়েন্ট কমলেও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।
অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব সূচকের উন্নতি হয়েছে। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬৩ দশমিক ০৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচক বেড়েছে যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৪০ ও ৪০ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট।
সংশোধনের প্রভাবে দুই বাজারেই লেনদেন কিছুটা কমেছে। গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে মোট ৫২৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭০ কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৫৯৩ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে এদিন লেনদেন হয় ৩৮ কোটি টাকা, যেখানে আগের দিন লেনদেন ছিল ৪৭ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে গতকাল স্বাভাবিক সংশোধন ঘটেছে। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিক্রয়চাপ ততটা তীব্র ছিল না। ফলে শুরুতে তৈরি হওয়া চাপ দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে বাজার। দিনের বাকি সময়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়নি। একই দিনে সংশোধন হলেও সূচকের বড় পতন হয়নি, যা বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন। নতুন সরকারের সময় ভালো বাজারের প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ঝুঁকি নিয়েও বাজারে অবস্থান ধরে রাখছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ দিকে তালিকাভুক্ত মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডকে ১০ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় ইউনিটধারীদের সম্মতিক্রমে একটি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০০২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ইউনিটধারীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এই রূপান্তরের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানিটির ৭ লাখ ৭৯ হাজার শেয়ার ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকায় হাতবদল হয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিটি ব্যাংক, যার ৬৩ লাখ ৮৮ হাজার শেয়ার ১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় লেনদেন হয়।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল- রবি আজিয়াটা, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, ইনটেক অনলাইন, সিমটেক্স ও লাভেলো আইসক্রিম।
মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ভিএএমএল আরবিবিএফ মিউচুয়াল ফান্ড, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে ছিল সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো হলো- সিমটেক্স, সায়হাম টেক্সটাইলস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, শাইনপুকুর সিরামিকস, এম হোসাইন স্পিনিং এবং চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
অন্য দিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং খাতের এনবিএল, যার দর কমেছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে ছিল তুং হাই, যার দর কমেছে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। দরপতনে শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল- ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল থার্ড মিউচুয়াল ফান্ড, জুট স্পিনার্স, প্রাইম ফিন্যান্স, মেট্রো স্পিনিং, এবি ব্যাংক, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর ও অলিম্পিক অ্যাসেসরিজ।