আরো চমকের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৯৮৬ ও ২০২২ সালের পর এবারই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কানাডার। আগের দুই আসরে গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি এবারের আসরের সহআয়োজকরা। এবার স্বাগতিক হিসেবে খেলতে নেমে গ্রুপের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। অপরদিকে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে খেললেও কোনো আসরে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে ইতিহাস গড়েছে তারা। এখন আরো চমক দেখানোর অপেক্ষায় আছে এই দুই দল।
বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব শেষে মাঠে গড়াচ্ছে নকআউট পর্ব। রাউন্ড অব ৩২-এ প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার গৌরব অর্জন করা ‘লেজ রোজেস’ ও ‘বাফানা বাফানা’রা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মাঠে গড়াবে দুই দলের ঐতিহাসিক এই লড়াই।
গ্রুপ পর্বের যাত্রা বেশ নাটকীয় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হারের পর অনেকেই তাদের বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরের ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কোচ হুগো ব্রুসের দল। চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ১-১ ড্র করার পর শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয় তারা। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা গ্রুপ পর্ব পেরোতে বড় ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে কানাডা। প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাথে ১-১ গোলে ড্র’র পর দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উঁড়িয়ে দেয় তারা। যদিও শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে। তবুও রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে তাদের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।
কানাডার সবচেয়ে বড় ভরসা ফরোয়ার্ড জনথন ডেভিড। গ্রুপ পর্বে তার দুর্দান্ত গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণের জন্য সতর্ক বার্তা। দারুণ ছন্দে রয়েছেন স্ট্রাইকার কাইল লারিনও। কৌশলগত দিক থেকে বল দখলে রেখে আক্রমণ গড়তে পছন্দ করে আসরের স্বাগতিকরা। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং বক্সের ভেতরে সুযোগ তৈরি করা তাদের অন্যতম শক্তি। তবে মাঝমাঠে কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে ইসমাইল কোনের অনুপস্থিতি। মারাত্মক ইনজুরিতে পড়ে তিনি আসরের বাকি ম্যাচগুলো থেকে ছিটকে গেছেন। এই ম্যাচের আগে চোট কাটিয়ে অধিনায়ক আলফানসো ডেভিস ফিরবেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। নকআউটের ম্যাচে ডেভিস ফিরলে আক্রমণের গতি অনেক বেড়ে যাবে কানাডার।
দক্ষিণ আফ্রিকার মূল শক্তি তাদের সঙ্গঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। মাঝমাঠে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে ফিরছেন তেবোহো মোকোয়েনা। যা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তবে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার নিষিদ্ধ থাকায় মধ্যমাঠে ঘাটতি দেখা দিতে পারে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানের অনুপস্থিতি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে তিনি সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। তবে শক্তিশালী রক্ষণভাগের ওপর ভরসা করেই মূলত কানাডার আক্রমণকে রুখে দেয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ‘বাফানা বাফানা’রা। রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বনে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ যত দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকবে, ততই আত্মবিশ্বাস বাড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার।
তবে দুই দলের মধ্যে অতীত ইতিহাস পক্ষে কথা বলছে দক্ষিণ আফ্রিকার। এর আগে ২০০৭ সালে ডারবানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কানাডাকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে এটিই তাদের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। সেই হিসেবে পরিসংখ্যানের চেয়ে বর্তমান ফর্ম এবং মানসিক দৃঢ়তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ ঘরের সমর্থকদের সমর্থন, তুলনামূলক শক্তিশালী আক্রমণভাগ এবং গ্রুপ পর্বের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকবে আত্মবিশ্বাসী কানাডা। ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রমাণ করেছে, চাপে পড়েও ঘুরে দাঁড়াতে জানে তারা। তাই এই ম্যাচে বড় চমকও দেখা যেতে পারে। ফলে দুই দলের সামনেই সুযোগ রয়েছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসকে আরো সমৃদ্ধির।