ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর সঙ্ঘাত নিরসনে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর

Printed Edition

এনবিসি নিউজ

  • প্রকাশ্যে এলো ১৪ দফা রূপরেখা
  • সীমান্তে ইসরাইলের বোমাবর্ষণ

কয়েক মাস ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী লড়াই থামানোর লক্ষ্যে ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যুদ্ধ অবসানের প্রথম ধাপ হিসেবে গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে এই চুক্তির কথা জানানো হয়।

চুক্তিপত্রে লেবাননের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ এবং ইসরাইলের পক্ষে রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার স্বাক্ষর করলেও এর সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ মন্তব্য করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা ফিরিয়ে আনা, স্থায়ীভাবে বৈরিতা দূর করা এবং বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ঘরে ফেরার পাশাপাশি সব লেবাননির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাথমিক সূত্রপাত। সমান্তরালভাবে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার একে দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত শান্তি তখনই আসবে যখন উভয় রাষ্ট্র পরস্পরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরাপদে সহাবস্থান করতে পারবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর, তার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল অভিমুখে রকেট ছুড়েছিল হিজবুল্লাহ। সেই থেকেই এই নতুন ফ্রন্টে সংঘাতের সূত্রপাত। এর জবাবে লেবানন জুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই ইসরাইলি আগ্রাসনে লেবাননে এ পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিপরীতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭ জন ইসরাইলি সেনা। অবশ্য চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও তা স্থায়ী হয়নি। এর আগেও মাঠপর্যায়ে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা নেয়া হলেও প্রতিবারই তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন ‘কাঠামোগত চুক্তির’ ১৪ দফার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। তবে এই রাজনৈতিক সমঝোতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাঠপর্যায়ে আবারো সঙ্ঘাতের খবর এসেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তসংলগ্ন মারকাবা শহরের আশপাশে রাতভর বিমান ও বোমাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই শহরে এই হামলা চালানো হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে দুই দেশের চলমান আলোচনার ‘প্রথম ধাপ’ ও স্থিতিশীলতা ফেরার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বর্ণনা করার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটায় আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত নথির দ্বিতীয় দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, উভয় দেশ একটি ‘পারস্পরিক ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রক্রিয়া’ অনুসরণে সম্মত হয়েছে, যার অধীনে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (লেবানিজ আর্মি) দেশের পুরো ভূখণ্ডে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। তবে এর পূর্বশর্ত হিসেবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়া সফল হওয়ার পরই ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) পর্যায়ক্রমে লেবাননের মাটি থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এই ১৪ দফার কাঠামোগত চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো সীমান্তে দীর্ঘদিনের সঙ্ঘাতের অবসান ঘটানো, লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও প্রকাশিত বিবৃতিতে বাকি ধারাগুলোর বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে তুলে ধরা হয়নি এবং এগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।