তারেক রহমানের পরিকল্পনার দিকে নজর থাকবে : ডা: শফিক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সহকর্মীর সরাসরি রাজনীতির মাঠে প্রত্যাবর্তন দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তবে এই প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমান কী ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন, কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান এবং সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি কী ধরনের কৌশল নেন- সে বিষয়গুলোর দিকেই জামায়াতের প্রধান নজর থাকবে।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের আমির বলেন, দীর্ঘ সময় পর একজন বড় রাজনৈতিক নেতা সরাসরি দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন- এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। তবে বর্তমান সঙ্কটময় রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্য, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে তারেক রহমান কী ভাবছেন এবং কিভাবে তা বাস্তবায়ন করতে চান, সেটিই মূল বিষয়।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক ধরনের রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই সময়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির চেয়ে নীতিনির্ভর, সংস্কারমুখী ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। সে প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা, বক্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণ জামায়াত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, আজ দেশের মানুষ শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলো কতটা আন্তরিক- সেটাই ইতিহাস নির্ধারণ করবে।
জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকার প্রশ্ন : এ দিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। বিবিসি বাংলাকে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরাটা একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা। এটি স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। তবে তিনি কিভাবে ভূমিকা রাখেন, কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ঐক্যের প্রশ্নে কতটা দায়িত্বশীল অবস্থান নেন- এসবের ওপরই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ভর করবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এসব বিষয়ে যেসব দল সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী অবস্থান নেবে, জনগণ তাদেরই গ্রহণ করবে।
ঐক্য রাজনীতির বাস্তবতা : রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যে যুগপৎ আন্দোলন ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, ভবিষ্যতেও সেই ঐক্য টিকিয়ে রাখা যায় কি না- তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জামায়াতের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তনকে সরাসরি বিরোধিতা করছে না; বরং এটিকে একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে। তারেক রহমানের ঘোষিত সংস্কার পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন এবং গণতান্ত্রিক আচরণ- এই তিনটি বিষয়ের ওপরই জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবর্তনের সময়, প্রত্যাশার চাপ : বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে বড় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘জাতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা’, রাষ্ট্র সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিতা এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছেন। তবে এসব বক্তব্য ও পরিকল্পনা বাস্তব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কিভাবে রূপ নেয়- সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়। জামায়াতের আমিরের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই ইঙ্গিত করে- ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়, বরং পরিকল্পনা, আচরণ ও বাস্তবায়নই ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে মুখ্য হয়ে উঠবে।
সবমিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেও, সেই অধ্যায়ের গতিপথ নির্ধারিত হবে তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এবং সংস্কার প্রশ্নে অবস্থানের ওপর- যার দিকে কেবল জামায়াত নয়, পুরো দেশই এখন তাকিয়ে আছে।
হাদির খুনিচক্রের বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া স্বস্তির পরিবেশ ফিরবে না
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা তরুণ নেতৃত্ব। মাত্র বত্রিশ বছরের সেই সাহসী যুবকের আগুনঝরা বক্তব্য সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্তকে নাড়া দিয়েছে। চব্বিশের জুলাই শহীদদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, ফ্যাসিস্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির আইকন হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়ানবাজারস্থ চট্টগ্রাম মহানগরীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মজলিসে শূরার অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির খুনিচক্রের বিচার নিশ্চিত করাসহ চোরাগুপ্তা হামলাকারী চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে আসবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করে জান-মালের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে হবে। নির্বাচন বানচাল করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে।
অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার সদস্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সিদ্দিকুর রহমান ও এস এম লুৎফর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন, মজলিসে শূরার সদস্য ড. আব্দুল মোতালেব প্রমুখ।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তাহের, প্রফেসর ড. মাওলানা সাইয়েদ আবু মুহাম্মদ নোমান, মহানগরী মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আকতার সিদ্দিকী, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, মাওলানা মমতাজুর রহমান, আমির হোছাইন, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুর, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, মাহমুদুল আলম, ফখরে জাহান সিরাজী, ড. মাহবুবুর রহমান ও ফারুকে আজম প্রমুখ।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিসেস ফরিদা খানম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মিসেস হাসিনা ইয়াসমিন রীনা, মিসেস আয়েশা পারভিন, মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদিকা মিসেস শিরিন জাহানসহ মহানগরী মজলিসে শূরার মহিলা সদস্যরা।