তুরস্কের শস্যভাণ্ডারে ভূগর্ভস্থ ধস

Printed Edition
back-7
তুরস্কের শস্যভাণ্ডারে ভূগর্ভস্থ ধস

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

তুরস্কের মধ্যাঞ্চলের কোনিয়া প্রদেশ একসময় দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন সেই উর্বর জমিতেই তৈরি হচ্ছে ভয়ঙ্কর সিঙ্কহোল (ভূগর্ভস্থ ধস)। হঠাৎ করেই জমির নিচে মাটি ধসে বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের খরা এবং দ্রুত নিচে নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। কোনিয়া প্রদেশের কারাপিনার এলাকায় ভুট্টা ও গমের ক্ষেতে এখন বড় বড় ফাটল ও গর্ত দেখা যাচ্ছে। কোথাও একটি জমিতেই ১০টির বেশি সিঙ্কহোল তৈরি হয়েছে। পাহাড়ঘেরা যেসব প্রাচীন পানির আধার একসময় পানিতে ভরা থাকত, সেগুলোও এখন প্রায় শুকিয়ে গেছে।

কোনিয়া টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ফেতুল্লাহ আরিক জানান, পুরো কোনিয়া অববাহিকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি সিঙ্কহোল শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় আধা মিটার কমত। কিন্তু এখন জলবায়ু পরিবর্তন ও খরার কারণে তা বছরে চার থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত নেমে যাচ্ছে। এতে মাটির নিচে ফাঁপা জায়গা তৈরি হচ্ছে এবং ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

পানির তীব্র সঙ্কটে কৃষকরা বাধ্য হয়ে গভীর কূপ খনন করছেন। এর বড় অংশই অবৈধ। হিসাব অনুযায়ী, এই এলাকায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার অবৈধ কূপ রয়েছে। বৈধ কূপ আছে মাত্র ৪০ হাজার। অতিরিক্ত পানি তোলার ফলে ভূগর্ভস্থ স্তর আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এখনো প্রাণহানি না হলেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। কারাপিনারের কৃষক মুস্তাফা শিক জানান, গত দুই বছরে তার জমিতেই দু’টি বড় সিঙ্কহোল তৈরি হয়েছে। একটি গর্ত তৈরির সময় বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। তখন তার ভাই খুব কাছেই কাজ করছিলেন। বিশেষজ্ঞরা তার জমির আরো দু’টি জায়গাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেছেন। তবে ঠিক কবে সেখানে ধস নামবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। ইন্টারনেট।