সংবাদ প্রকাশের জেরে আটক

নয়া দিগন্তের বাজিতপুর সংবাদদাতার জামিন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ‘সংবাদ প্রকাশের জেরে’ এক সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে। গত ১২ মার্চ সংবাদ সংগ্রহ শেষে বাজিতপুরের এক হোটেলে অবস্থানকালে সেখানে হাজির হয়ে সাংবাদিক আলি জামশেদকে ‘ডেকে এনে’ জিজ্ঞাসাবাদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দিনভর এই ‘হয়রানি’র পর জেলা শহর কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। অবশেষে রাতে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে নিকলীর বরুশিয়া হাওরে ড্রেজার দিয়ে ফসলিজমির মাটি কাটার সংবাদ সংগ্রহ করেন নয়া দিগন্তের বাজিতপুর প্রতিনিধি আলি জামশেদ। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি। দুপুরের দিকে বাজিতপুরের এক হোটেলে অবস্থানকালে সেখানে হাজির হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত। তিনি ওই সাংবাদিককে বাইরে ডেকে এনে সংবাদ প্রকাশের ‘কৈফিয়ত’ তলব করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশ ডেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। এ সময় সাংবাদিকের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, প্রেস কার্ড, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ভয়েস রেকর্ডার, পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকের অভিযোগ, সাংবাদিকের সাথে থাকা ১০ লাখ টাকার একটি ব্যাগ জব্দ তালিকায় না নেয়া হলেও পরে তা নিয়ে যায় ওই সাংবাদিক টাকার বিষয়টি চিৎকার করে সবাইকে শোনালেও প্রশাসন ‘নীরব’ ভূমিকা পালন করে। সেখানে উপস্থিত অনেকের তোলা লাইভ ভিডিওতে এ বিষয়ে আহাজারির প্রমাণ মিলছে বলে জানা যায়।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার পর বিকেলে থানার গাড়িতে তুলে সাংবাদিককে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। রাত ১০টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জামশেদের জবানবন্দী ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে জামিনে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে রাতেই এলাকায় ফিরলে শত শত মানুষ তাকে স্বাগত জানান এবং এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এ দিকে সাংবাদিক জামশেদ ও তার পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে হতাশায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, গরুর হাটের রাজস্ব কমে যাওয়া এবং সাংবাদিকের প্রতিবাদী লেখার কারণেই তাকে এমন হয়রানি করা হয়েছে।