অনন্য প্রতিভা রিশাদ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেগ স্পিনার বরাবরই ছিল এক দুর্লভ সম্পদ। সেই ঘাটতির জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আশার নাম রিশাদ হোসেন। তরুণ এই লেগব্রেক বোলার খুব অল্প সময়েই নিজের প্রতিভা দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে তিন উইকেট তুলে নিয়ে তিনি আবার দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে তিনি হয়ে উঠতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ এক শক্তি।

২০০২ সালের ১৫ জুলাই জন্ম নেয়া রিশাদ হোসেনের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছিল গভীর আগ্রহ। স্থানীয় মাঠে টেপ টেনিস কিংবা স্কুল ক্রিকেট সব জায়গাতেই তিনি বল হাতে নজর কাড়তেন। অন্যদের মতো পেস বোলিংয়ের দিকে না ঝুঁকে লেগ স্পিনকে নিজের মূল অস্ত্র বানান তিনি। ধীরে ধীরে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে প্রতিভার প্রমাণ দিতে শুরু করেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলতে খেলতেই তার লেগব্রেক, গুগলি ও ফ্লাইটের ভিন্নতা কোচদের নজর কাড়ে। ব্যাটারকে ফাঁদে ফেলতে তিনি কখনো বল ধীরগতিতে ছাড়েন, আবার কখনো দ্রুত গতির গুগলি দিয়ে চমকে দেন। এই বৈচিত্র্যই তাকে অন্য স্পিনারদের থেকে আলাদা করে তোলে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রিশাদ নিজের জায়গা আরো শক্ত করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তার ক্যারিয়ারের বড় মঞ্চ হয়ে ওঠে। এই টুর্নামেন্টে তিনি দেশের শীর্ষ ব্যাটারদের বিপক্ষে বল করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তরুণ বয়সেই বড় মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সাথে বোলিং করার ক্ষমতা তাকে দ্রুত পরিচিত করে তোলে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পরও রিশাদ নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে শুরু করেছেন। টি-২০ ক্রিকেটে তিনি দ্রুতই উইকেট শিকারি বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক টি-২০তে একাধিক ম্যাচে তিন বা তার বেশি উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েছেন। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে তার আক্রমণাত্মক বোলিং প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমিয়ে দেয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে তিন উইকেট নেয়া তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স তরুণ এই লেগ স্পিনারের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়াবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টি-২০তে তার উইকেট সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন ধরে একজন কার্যকর লেগ স্পিনারের অভাব ছিল। রিশাদ সেই শূন্যস্থান পূরণের সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন। তার বলের টার্ন, ভ্যারিয়েশন ও সাহসী মানসিকতা তাকে আলাদা করে তুলেছে।

তবে পথ এখনো দীর্ঘ। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন- এই তিন বিষয়ই নির্ধারণ করবে রিশাদের ভবিষ্যৎ। যদি উন্নতির এই ধারা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন রিশাদ। লেগব্রেক গুগলি বোলার রিশাদ হোসেন আবারো নজর কাড়লেন।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে যখন থামানো যাচ্ছিল না পাক ব্যাটারদের। সেখানে লাগাম টেনে ধরেন রিশাদ। তার উইকেট প্রাপ্তিতেই মূলত ৩০০ রানের মুখ দেখেনি সফরকারীরা। ৯.৩ ওভারে ৫৬ রান খরচায় তিন উইকেট নেন। প্রথম শিকার হোসাইন তালাত (৯), শাহিন শাহ আফ্রিদি (৩) ও মোহাম্মদ ওয়াসিম (১)। প্রথম ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিছুদিন আগে বিসিএলে নর্থ জোনের হয়ে পেয়েছেন চার ম্যাচে ৯ উইকেট। বিশ্বকাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ মেটাতে বিসিবি অদম্য কাপে তিন ম্যাচে ধূমকেতু একাদশের হয়ে পেয়েছেন পাঁচ উইকেট।