পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা

চট্টগ্রামের জামালখানে পাহাড় কেটে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিডিএ’র অভিযান

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Printed Edition

চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখান এলাকায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। গতকাল সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: নুরুল করিম। অভিযানকালে সিডিএ’র আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান, বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম, সিডিএর সচিব, প্রকৌশলীবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাথে ছিলেন। এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: নুরুল করিম বলেন, নগর পরিকল্পনার বাইরে গড়ে ওঠা যেকোনো অবৈধ স্থাপনা, বিশেষ করে পাহাড় কেটে নির্মিত ভবন শহরের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

বর্ষায় এসব এলাকায় ভূমিধস ও প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। তাই এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এ অভিযানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন- বিএইচআরএফ-এর মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট কে এম শান্তনু চৌধুরী, হৃদয় বড়ুয়া, মো: আবদুল আলীন নজরুল হোসেন প্রমুখ।

সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। সিআরবি আন্দোলনের মতো মিডিয়াকর্মী ও নাগরিকদের যুগপৎ ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করছি দৃশ্যমান পাহাড় কেটে বা অনুমোদনবিহীন স্থাপনায় কোনো ফ্ল্যাট বা জমি যেন ক্রয় না করেন। এতে তারা শুধু নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলছেন না, বরং আইনগত জটিল পরিস্থিতি ও ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, পাহাড় কাটা একটি ফৌজদারি অপরাধ। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(খ) অনুযায়ী, পাহাড় কাটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ড উভয় দণ্ডই প্রযোজ্য হতে পারে। তা ছাড়া, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২৬৮ অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ সৃষ্টিকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: নুরুল করিম বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে কিংবা দৃশ্যমান পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা গড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে এসব এলাকায় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন করে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণকেও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এখানে উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান এলাকায় চলমান স্বপ্নীল ফ্যামিলি নামক প্রকল্পে পাহাড় কাটায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা প্রদান করায় তারা হাইকোর্টে রীট পিটিশন নং- ৪৬৫২/২০২৪ দায়ের করে এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশপ্রাপ্ত হয়।

গত ২০ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এই আদেশের বিরূদ্ধে শুনানি হয়। বিচারপতি মো: রেজাউল হক শুনানি অন্তে বিগত ৩০.০৪.২০২৪ ইং তারিখ রিট পিটিশন নং- ৪৬৫২/২০২৪ এ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞা ৮ (আট) সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এই মামলায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুরাদ সরোয়ার ভূইয়া। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান।