বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বোনাস দ্বিগুণ হচ্ছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঈদের উৎসবভাতা বাড়ানো সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে গতকাল বিকেলেই অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
Printed Edition
ঈদের আগেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য দু’টি সুখবর আসছে। একটি হলো শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন তারা এখন থেকে প্রতি মাসের শুরুতেই ব্যাংকের (ইএফটি) মাধ্যমে হাতে পাবেন। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আগের তুলনায় ঈদবোনাসও তারা দ্বিগুণ পরিমাণে পাবেন। আগে শিক্ষকদের জন্য উৎসবভাতা বা ঈদবোনাস মূল বেতনের ২৫ শতাংশ পেলেও এবার কোরবানির ঈদেই এটা বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসাথে কর্মচারীদের ঈদবোনাসও আগের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে বেতনের ৭৫ শতাংশ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার শিক্ষক কর্মচারীদের মে মাসের বেতন আসন্ন জুন মাসের প্রথমেই ইএফটিতে দেয়ার জন্য সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া আরো সহজভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতনের প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, এ ধাপে মোট ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে স্কুলের ২ লাখ ৯১ হাজার ১৬১ জন ও কলেজের ৮৭ হাজার ২৬৩ জন।
এ দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঈদের উৎসবভাতা বাড়ানো সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে গতকাল বিকেলেই অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কর্মচারীদের উৎসবভাতা ৭৫ শতাংশ করার প্রস্তাবটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় আবারো যৌথ সভা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতনভাতা পান। তবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলেও তা রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’পদ্ধতিতে ছাড় হয়। এ অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানান ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সম্প্রতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও ইএফটিতে পাওয়া শুরু করেছেন। তবে, অনেকেই ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন ইএমআইএস সেলে অস্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবহেলা ও উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতিতে। মাউশি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান নয়া দিগন্তকে জানান, গতকাল বেসরকারি স্কুল কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৯০৮ কোটি ৬২ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ টাকা ছাড়ের জন্য প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে স্কুল কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য (মূল বেতনের ৪ শতাংশ হারে) ৩৪ কোটি ৫১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৪ টাকা ছাড়ের জন্য এবং একইসাথে অবসর ভাতার জন্য (মূল বেতনের ৬ শতাংশ হারে) ৫১ কোটি ৭৭ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫৮ টাকা ছাড়ের আবেদন করা হয়েছে। মাউশির ডিজি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষক কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি লাঘবে ইএফটিতে বেতনভাতার অর্থ ছাড়করণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।