তারেক রহমানের গণসংবর্ধনায় প্রস্তুত মঞ্চ বুলেটপ্রুফ গাড়ি ঢাকায়
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেড় যুগ পর তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে নেয়া হচ্ছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। পূর্বাচলের তিন শ’ ফিট রাস্তায় গণসংবর্ধনার জন্য বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বুলেটপ্রুফ গাড়ি। নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে এ দিন রাজধানীতে লাখ লাখ লোকের সমাগম হবে। তারেক রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে আসবেন। সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে গুলশানের বাসায় যাবেন। বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরা পর্যন্ত দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে নি-িদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার নিরাপত্তার জন্য চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া দলের বিশ্বস্ত নেতাদের সমন্বয়েও একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সর্বোচ্চ জনসমাগম ও নিরাপত্তা এবং পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আজকের মধ্যে নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ চলে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বুলেটপ্রুফ গাড়ি প্রস্তুত : তারেক রহমানের নিরাপত্তায় বিএনপির কেনা বুলেটপ্রুফ বাস দেশে এসেছে। বাসটি রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়েছে। সোমবার এটি ঢাকায় পৌঁছেছে। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি ‘হার্ড জিপ’ গাড়ি আনা হয়েছে। টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো এলসি ২৫০ মডেলের এই গাড়িটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নামে নিবন্ধিত হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রেরও অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনা : জানা গেছে বিমানবন্দর থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি সংবর্ধনামঞ্চে উঠবেন তারেক রহমান। এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে পূর্বাচলগামী ৩০০ ফিট প্রশস্ত মহাসড়কে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল সংবর্ধনামঞ্চ। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রমে ব্যস্ত শ্রমিকরা। রোববার দুপুর থেকে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। মঞ্চ হচ্ছে ৪৮ বাই ৩৬ ফিট। সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা বিরামহীন তদারকি করে আয়োজনকে পূর্ণতা দেয়ার চেষ্টা করছেন। আজকের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রতিদিন খোঁজখবর রাখছেন।
সমাবেশ ঘিরে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুরো এলাকাজুড়ে মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। সোমবার বিকেলে রাজধানীর সংবর্ধনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিএনপি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাখ লাখ মানুষ স্বাগত জানাতে আসবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের আগমন এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে কোনো অসহযোগিতা নেই। তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোটি মানুষ তারেক রহমানকে স্বচক্ষে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সংবর্ধনা আয়োজনের অনুমতি : তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পেয়েছে দলটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে এ-সংক্রান্ত অনুমতিপত্র পাঠিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
১০ রুটে চলবে স্পেশাল ট্রেন : তারেক রহমানের সংবর্ধনায় যোগদানের সুবিধার্থে ২৫ ডিসেম্বর ১০ রুটে চলবে স্পেশাল ট্রেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ বরাদ্দের জন্য বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের জন্য স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা এবং নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।