আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

‘ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের বাড়তি খরচ ২ হাজার কোটি টাকা শূন্যে নামিয়ে আনব’

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
BSRF
বিএসআরএফ’র মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন | নয়া দিগন্ত

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের ফলে কয়েকটি দেশে বাংলাদেশী পণ্য পরিবহন খরচ দুই হাজার কোটি টাকা বেড়েছে জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, শিগগির যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি তাতে এ খরচ শূন্যের কোঠায় নেবো। এ ছাড়া বাড়তি শুল্কের বোঝা কমাতে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপ : চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর যে মার্কিন সেবা কিনছে, তা হিসাব করে না যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বড় দেখায়। এ বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরা হবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছয় বিলিয়ন ডলারের মতো। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করে, বাংলাদেশে তার চেয়ে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্রে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বিশ্বের শতাধিক দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের রফতানি পণ্যেও চড়া হারে সম্পূরক শুল্কারোপ করেছে। সরকারের অনুরোধে সেই ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও আগের ১৫ শতাংশ শুল্কের সাথে বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশকে দিতেই হবে। এই বাড়তি শুল্ক দেশের প্রধান রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা। এ অবস্থায় বাড়তি শুল্ক এড়াতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হবে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে কী করা যায়, তা ভাবছে সরকার।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি, তার ৭৫ শতাংশ চারটা পণ্যে সীমাবদ্ধ। তুলা, এলএনজি সয়াবিন ও মেটাল স্ক্র্যাপ। বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলার। রফতানি আট বিলিয়ন ডালার আর আমদানি দুই বিলিয়ন ডলার। আমরা কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারি তা ঠিক করতে দেশের বিদগ্ধ অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ নিয়ে কিছু কর্মসমষ্টি তৈরি করেছি। প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ লুৎফে সিদ্দিকী ও বাণিজ্য সচিব আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। সেখানে শুল্ক নির্দিষ্টকরণের দায়িত্বে থাকা ইউএসটিআরের প্রতিনিধিদের সাথে সংযুক্ত হবেন।

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এ ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে আমাদের খরচ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি, কর্মসূচি নিয়েছি, বাতিলের ব্যাপারে দিনরাত আলোচনা করছি। আমি নিজে পয়লা বৈশাখের সারা দিন বিমানবন্দরে কাটিয়েছি। নিজে বোঝার চেষ্টা করেছি, কিভাবে এ সমস্যা হচ্ছে, কেন আমাদের দেশের পণ্যবাহী কার্গো আরেক দেশের সহায়তা নিয়ে তৃতীয় দেশে যেতে হচ্ছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, আশা করি এটা সমাধান করতে পারব। আবার গতকাল থেকে আমাকে (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা) নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটা সেই কর্মসূচিকে গতিশীল করবে। আমি মনে করি, ঠিক যেভাবে বাজারকে পণ্যের বৈচিত্র্যময়, সরবরাহ ঠিক করার মাধ্যমে স্থিতিশীল করেছি, এ কাজও সেভাবে বিমানে পণ্যবাহী কার্গো ঠিকমতো পরিবহন করতে পারব। বাড়তি দুই হাজার কোটি টাকা পোষাতে পারব, এটি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনব। আশা করি, এক সময় মাইনাস টাকায়ও নিতে পারব।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, সঞ্চালনায় ছিলেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।