পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন
শেষ দফার ভোটদানেও রেকর্ড
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের শেষ দফার ভোট গ্রহণ গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। তবে প্রথম দফার ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট গ্রহণের ধারা বজায় থাকেনি দ্বিতীয় দফায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের চেষ্টায় কিছু ক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিকও হয়েছে। শেষ দফায় রাজ্য তথা দেশের নজর ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রে। কারণ সেখানে লড়ছেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী। তৃণমূলনেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসনে এবার লড়াই করতে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। খবর বিবিসি ও বিভিন্ন বার্তা মাধ্যমের।
৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুভেন্দুর উদ্দেশে তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ‘চোর-চোর’ কটাক্ষের পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। কিছু ক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভোটের ভবানীপুর। লাঠিচার্জ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারপর আর বিশেষ গণ্ডগোল দেখা যায়নি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও বিশৃঙ্খলা হয়েছে। আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে দেখে বিক্ষোভ দেখান শাসক দলের কর্মীরা। তবে ওই পর্যন্ত। ভোটের সময় ভাঙড়ের ‘চেনা ছবি’ এবার দেখা যায়নি। হুগলির গোঘাটে কিছুক্ষণের জন্য অশান্তি হয়েছিল। সেখানেও প্রশাসন, বাহিনীর চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছে।
‘বহিরাগত’ ধরতে দৌড় শুভেন্দুর
ভোট পরিদর্শনে কালীঘাট চত্বরে পৌঁছতেই শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে তৃণমূল। ‘বহিরাগতদের’ ধরতে বাহিনীর সাথে দৌড়োতে দেখা যায় শুভেন্দুকেও। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু। বুধবার সাড়ে ১২টা নাগাদ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মুক্তদল মোড় এলাকায় শুভেন্দুর গাড়ি পৌঁছতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকেরা। শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেয়া হয়। তারপর তিনি যান কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায়।সেখানে তৃণমূল কর্মীরা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকলে বিজেপি কর্মীরা পাল্টা ‘পিসি চোর-ভাইপো চোর’ স্লোগান দেন। বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুকে দেখে দলীয় কার্যালয় থেকে কর্মীদের স্লোগান দিতে বলেন। তার পরেই দু’পক্ষের মধ্যে স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়।
মমতা ভোট দিলেন মিত্র ইনস্টিটিউশনে
মিত্র ইনস্টিটিউশনে কেন্দ্রে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভোট দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন তিনি। মমতা ব্যানার্জি বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী চার দিকে অত্যাচার করছে, বুথে এজেন্টদের বসতে দিচ্ছে না।” তবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি বলেন, “দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাব আমরা।” পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করায় মানুষ ভোট দিতে পারছেন বলে মনে করেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, বুথে বুথে গিয়ে মানুষ ভোট দিতে সক্ষম হয়েছেন কারণ ব্যাপক সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।”