সংক্ষিপ্ত সংবাদ
Printed Edition
শিবচর থানার ওসি প্রত্যাহার
কর্মস্থলে যোগদানের চার দিনের মাথায় মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে জরুরি এক চিঠিতে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। মাদারীপুরের শিবচর থানার নতুন ওসি আমির হোসেন সেরনিয়াবাত তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে। গতকাল সকাল থেকে ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানা যায়। এর আগে শনিবার তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, শিবচর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে গত মঙ্গলবার থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন আমির হোসেন সেরনিয়াবাত। তিনি শিবচর থানায় উপ-পরিদর্শক এবং পরবর্তীতে পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ২৪ মার্চ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যোগদান করেন। মাত্র ৪ দিনের মধ্যেই শনিবার তাকে ক্লোজড করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রত্যাহারের কারণ জানা যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো: সালাহ উদ্দীন কাদের বলেন, স্বাভাবিকভাবেই তাকে বদলি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই অন্য একজন যোগদান করবেন। শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা।
আনোয়ারায় গৃহবধূর আত্মহত্যা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে জিন্নাত আরা ঝিনুক (২৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল সকালে উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ হেডপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝিনুক ওই এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের স্ত্রী। তাদের মোহাম্মদ রায়হান নামের সাত মাস বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে। নিহতের স্বামী ওমর ফারুক জানান, আর্থিক সঙ্কটের কারণে স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রাখা হয়েছিল। এসব স্বর্ণ ফেরত আনার জন্য স্ত্রী চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে আগের রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। সকালে তিনি বাইরে গেলে ফিরে এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। এর পর জানালা দিয়ে তাকিয়ে স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘরের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে নিচে নামান। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এটি আত্মহনন নয়; বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝিনুককে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন। আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা।
গাবতলীতে ধান ক্ষেত থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার
বগুড়ার গাবতলীতে একটি শ্যালো মেশিনের ঘরের পাশ থেকে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের নিশিন্দারা আকন্দপাড়া গ্রামের শালমারা বিলের চরে তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত মো: আব্দুল লতিফ আকন্দ (৬৫) গাবতলী উপজেলার নিশিন্দারা পাঁচমাইল এলাকার মৃত মোবারক আকন্দের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল লতিফ আকন্দ পেশায় কৃষক ছিলেন। তিনি শালমারা বিলের চরে নিজের শ্যালো মেশিনের ঘরে অবস্থান করে জমিতে সেচের কাজ করতেন। শনিবার রাতে সেচ দেয়ার জন্য তিনি ওই ঘরেই ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন শ্যালো মেশিনের ঘরে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। গাবতলী মডেল থানার ওসি রাকিব হাসান বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বগুড়া অফিস।
নোয়াখালীতে ইটভাটায় শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মো: সোহেল রানা (২৪) নামে এক ইটভাটা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের পূর্ব রাজুরগাঁও গ্রামের রাজী সাহেব ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের অফিস সংলগ্ন ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের উত্তর শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা অলি উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা। তিনি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। জানা গেছে গত শুক্রবার সোহেল ইটভাটায় কাজে যাননি। বিকেলে তাকে জোরপূর্বক ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তার মামা কামাল ও সাইফুল মাঝির ভাই আলতাব। এ সময় তাদের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা হয়। এর পর সন্ধ্যার পর থেকেই সোহেল রানা নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। রোববার সকালে ইটভাটার অফিস সংলগ্ন ডোবায় লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় শ্রমিকরা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নোয়াখালী অফিস।
গোমতী নদী রক্ষায় সেনাবাহিনী-প্রশাসনের যৌথ অভিযান
গোমতী নদীর তীর রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে কুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এই অভিযান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। গতকাল সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন মুরাদনগর আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খাঁনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোমতী নদীর তীরবর্তী নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের মালিশাইর ও ধামঘরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে উর্বর মাটি উত্তোলন করে ইটভাটা ও কৃষিজমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে নদীর তীর ভাঙন ও প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল। অভিযান চলাকালে অবৈধ মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত একাধিক ড্রেজার ও এক্সেভেটর বিকল করে দেয়া হয় এবং মাটিবাহী ট্রাক্টর জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেয়া হয়। মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খাঁন বলেন, গোমতী নদীর তীর রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা।
কুমিল্লায় পানিতে ডুবে দুই সহোদরের করুণ মৃত্যু
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু আলী ও অলী (৪) পার্শ্ববর্তী বুড়িচং উপজেলার গিলাতলা গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঘিলাতলা গ্রাম থেকে আলী ও অলী তাদের মায়ের সাথে জিরুইন গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। রোববার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সবার অগোচরে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা শিশুদের খুঁজে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, শিশু দুটি খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারী গ্রেফতার
মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে হামলাকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল মাতুব্বরকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক ফয়সালের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রোমান বেপারী ও তাওহীদ সন্নামাত হত্যা, পুলিশি কাজে বাঁধা ও সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও তাকে গ্রেফতার করা হলেও জামিনে এসে পুনরায় সন্ত্রাসীবিরোধী কর্মকাণ্ড করায় ফের তাকে গ্রেফতার করা হয়। ফয়সাল মাতুব্বর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার জয়নাল মাতুব্বরের ছেলে। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। এর আগে আওয়ামী লীগের সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পুলিশ জানান, ফয়সালকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার বিকেলে তাকে মাদারীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য জামিন ছাড়া মামলাও গ্রেফতার দেখানো হয়। ফয়সাল ২০২৪ সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মস্তফাপুর ও যুব উন্নয়নের সামনে ছাত্রদের উপর অস্ত্র নিয়ে হামলার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে
পড়ে। মাদারীপুর প্রতিনিধি।