সেফটিক ট্যাংকে প্রলেপ দিয়েই বিল উত্তোলন
Printed Edition
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত দু’টি প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গজরা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার হাফিজ মুন্সি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫৩ নম্বর গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তার হেরিংবন্ড উন্নয়নকাজে মোট চার লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে সেফটিক ট্যাংকের জন্য এক লাখ ১৭ হাজার এবং রাস্তার জন্য তিন লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সেফটিক ট্যাংক নির্মাণ না করে পুরনো ট্যাংকের ওপর সামান্য সিমেন্টের প্রলেপ দিয়েই কাজ শেষ দেখিয়ে প্রকল্পের পুরো বিলও উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে রাস্তা উন্নয়নকাজে নতুন ইটের পরিবর্তে পুরনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুনরায় কাজের নির্দেশ দিলেও পরে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই কাজ করা হয়েছে। সেফটিক ট্যাংকটি আগে থেকেই ভালো অবস্থায় ছিল। প্রয়োজন হলে বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো যেতো।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাফিজ মুন্সি বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তার দাবি, কাজগুলো করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ।
গজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ বলেন, হাফিজ মুন্সি ইউনিয়ন পরিষদের তিনটি প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কাজ তদারকি করে বিল পরিশোধ করেছে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মুনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।