অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে জৌলুশ হারাচ্ছে বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্র

Printed Edition

সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্র এখন অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে জৌলুশ হারাচ্ছে। পাহাড়, স্বচ্ছ পানির খাল, সবুজ প্রকৃতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে একসময় পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এই স্থানটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের ঐতিহাসিক বাঁশতলা। এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বহু মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়েছে। রয়েছে স্মৃতিসৌধ, স্লুইচ গেট এবং ঝুমগাঁও পাহাড়ি টিলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। পাহাড় থেকে নেমে আসা চেলাই খালের স্বচ্ছ পানি ও সবুজে ঘেরা পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করেছে।

তবে বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্রটির চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। আগে যেখানে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যেত, এখন সেখানে লোকসমাগম অনেক কমে গেছে। স্লুইচ গেটের পানিতে গোসল বা পাহাড়ি টিলায় ঘোরাঘুরির আগ্রহও কমেছে পর্যটকদের মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম না হওয়ায় কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ঘেরা মনোরম এই এলাকায় প্রকৃতির সৌন্দর্য এখনো মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। পাহাড়ি খাল, সবুজ বনাঞ্চল, পাখির কলকাকলি ও আদিবাসী জীবনচিত্র মিলিয়ে এলাকাটি এখনো সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। একসময় এখানে মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকলেও এখন পর্যটনকেন্দ্রটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, উপজেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে এটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। দ্রুত সংস্কার, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাঁশতলা আবার পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাঁশতলায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কিছু উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্র সিলেট অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে।