সংসদের শিষ্টাচার মানতে এমপিদের কড়া নির্দেশ স্পিকারের

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে বসে মোবাইলফোনে কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া করা এবং দর্শক গ্যালারির কারো সাথে কুশল বিনিময় করা থেকে সংসদ সদস্যদের (এমপি) বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একইসাথে তিনি সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও সংস্কৃতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে এসব কথা বলেন স্পিকার। এ সময় বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সংসদ সদস্যরা শিষ্টাচার অনুসরণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

গত বুধবার সরকারি দলের আসনে গিয়ে বসায় বিরোধীদলীয় সদস্য হান্নান মাসুদকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আপনি কি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি? ফোর ক্রসিং ইজ নট অ্যালাউড।’ এর আগে ২১ এপ্রিল অধিবেশন কক্ষে এক সদস্যকে লক্ষ্য করে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য লাস্ট, বাট ওয়ান রো ফোর্থ ফ্রম লেফট স্যুট পরা এখান থেকে ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছি না। না না আপনার সামনে, আপনার সামনে, স্যুট স্যুট পরা আপনি কী খাচ্ছেন? চা খাচ্ছেন? ওখানে ইউ হ্যাভ বিন ড্রিংকিং সামথিং। স্যরি ওষুধ খাচ্ছেন? গরম পানি খাচ্ছেন? আচ্ছা আমি দেখে ভাবলাম তিনি চা খাচ্ছেন। পরবর্তীতে আরো কী খাবেন গড নোজ।’ গত ১০ এপ্রিল সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে অসহিষ্ণু না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার’ (এটা শাহবাগ চত্বর নয়)।

ওই সব বিষয় তুলে ধরে স্পিকার সংসদে বলেন, এই সংসদ জাতির আশা-আকাক্সার প্রতীক। একটি জাতীয় সংসদ এগিয়ে যায়, আইন-কানুন, প্রচলিত বিধিবিধান ও রেওয়াজের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় লক্ষ্য করেছি। অত্যন্ত বিনীতভাবে দুয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই। তিনি বলেন, ‘সংসদ গ্যালারিতে পরিচিত কেউ থাকলে তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো বক্তব্য রাখা যায় না। এটি সংসদের রেওয়াজ। কিন্তু আজকে দেখলাম, দু’জন সদস্য দর্শক গ্যালারিতে থাকা ব্যক্তিদের সাথে হ্যান্ডশেক করছেন। এটি একেবারেই অনভিপ্রেত।’

স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর রীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, অনেক সদস্য সংসদে প্রবেশের বা বের হওয়ার সময় চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না। বিশ্বব্যাপী সংসদের প্রচলিত নিয়ম হলো, প্রবেশের সময় মাথা নত বা সম্মান প্রদর্শন করে নিজ আসনে যেতে হয়। বের হওয়ার সময়ও একইভাবে সম্মান দেখাতে হয়। স্পিকার ও যিনি বক্তব্য রাখছেন, তাদের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে ক্রস করা সঠিক নয়, কিন্তু সেটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সদস্য সংসদে টেলিফোনে কথা বলেন। কেউ কেউ মুখ ঢেকে কথা বলেন। সংসদে টেলিফোনে আলাপের রেওয়াজ নেই। মোবাইলফোন মিউট করে রাখবেন। একান্তই কথা বলার প্রয়োজন হলে লবিতে গিয়ে বলবেন। ইতোমধ্যে একজনকে পানাহাররত অবস্থায় দেখেছি। সংসদে খাওয়া-দাওয়া বা পানাহারের কোনো বিধান নেই। অতীতে যে কয়েকটি সংসদ দেখেছি, সেখানে এমন ছিল না। এসব কথা বলতে আমার খারাপ লাগছে, কিন্তু সংসদের মর্যাদা ক্ষুণœ হয়, এমন কিছু করা আমাদের অনুচিত।

‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ কথা বলার নিয়ম প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার প্রকৃষ্ট সময় হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে। খুব জরুরি হলে তখন দাঁড়িয়ে কোন বিধিতে কথা বলছেন, সেটি উল্লেখ করে বলতে হবে। অতীতের সংসদগুলো এভাবেই চলেছে। তিনি আরো বলেন, যারা নতুন সংসদে এসেছেন, তারা ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ (কার্যপ্রণালী বিধি) বইটি ভালোভাবে পড়ে নেবেন। তাহলে আপনাদের জন্য কাজ করা সহজ হবে এবং আমাদেরও কোনো অপ্রীতিকর কথা বলতে হবে না। আশা করি সবাই সতর্ক থাকবেন।