ক্রয় কমিটির সভাপতির সই জাল করে কোটি টাকার কারচুপি

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অর্থ লুটপাটের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ক্রয় কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রায় কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি নিজেই।

গত রোববার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রয় কমিটির সভাপতি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা: মো: কায়সার হাসান খান বিস্ফোরক এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার নাম, আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের শামিল।

তার অভিযোগ, ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়েছে তাকে অন্ধকারে রেখে। নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণে আপত্তি জানালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের রোষানলে পড়েন। এমনকি তার মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ওই ওষুধ হাসপাতালের স্টোরে মজুদের নির্দেশ দেয়া হয়। অভিযোগের তীর আরো ছুটে যায় মূল্যায়ন কমিটির গঠন প্রক্রিয়ার দিকেও। ডা: কায়সার জানান, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: ইমতিয়াজ হোসাইনকে সদস্য সচিব এবং নান্দাইল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: শামীমা সুলতানাকে সদস্য করা হলেও এ সংক্রান্ত কোনো অফিস আদেশ বা চিঠি তাকে দেয়া হয়নি। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ টাকার সরকারি কেনাকাটায় এই অনিয়ম ও অর্থ কারচুপির সাথে জড়িত। ঘটনার পর তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেটিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ডা: কায়সারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল তদন্ত কমিটি হাসপাতালে গেলে বহিরাগতদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করা হয়। দেড় থেকে দুই শ’ লোকের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেয়া হয়। তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি তার গাড়িচালক মফিদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তিনি আরো জানান, অতীতেও হাসপাতালের বৈকালিক চেম্বারের পারিশ্রমিক থেকে জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা মাসোহারা আদায় করা হতো, যা দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপেরই ইঙ্গিত। এদিকে, অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ডা: কায়সার।