জনশক্তি ব্যুরোতে ঝুলে আছে বিদেশগামী ১২ হাজার কর্মীর ছাড়পত্র

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে লাউস, মালদ্বীপ, কাতারসহ কয়েকটি দেশের বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশনা না আসার কারণে এসব কর্মীর নামে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু থেকে বিরত রয়েছেন বলে খোদ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (ডিজি)। আর ছাড়পত্র যথাসময়ে না দেয়ার কারণে একদিকে অবৈধ পথে কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সংখ্য যেমন বাড়ছে, তেমনি সরকার রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে কাকরাইলের রাজমনি ঈশা খাঁ হোটেলের নিচতলায় থাকা রিক্রুটিং এজেন্সির মাহাবুব আলম নয়া দিগন্তকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডিজি স্যারের কারণে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। কোনো কাজ নাই। বসে আছি। আনডকুমেন্ট (অসত্যায়িত) ভিসায় লাউস, মালদ্বীপ, ফিজি, ইউরোপ, কাতারসহ কয়েকটি দেশে যাওয়ার জন্য কর্মীদের নামে বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ভিসা এলেও তাদের বহির্গমন ছাড়পত্রের ফাইল জমা দেয়ার পরই আটকে রাখা হয়েছে। অনেক ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি (ডিজি) এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তও জানাচ্ছেন না। এভাবে যদি কর্মীদের বিদেশ যেতে ‘বাধা’ দেয়া হয় তাহলে আমরা কিভাবে ব্যবসা করব? আগে তো বিদেশে থাকা মামা খালুদের সংগ্রহ করা একক ভিসাতেই দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া বিএমইটি কর্তৃপক্ষ অসংখ্য ভিসায় ক্লিয়ারেন্স দিয়েছেন। তারা বিদেশেও চলে গেছেন। তাদের বিদেশ যাওয়ার পর কয়জনের সমস্যা হয়েছে? টুকটাক সমস্যা হলে সেটি আমরা অবশ্যই দেখব এবং দেখছিও। কিন্তু এখন টোটালি বিএমইটি থেকে আনডকুমেন্ট (অসত্যায়িত) ভিসার ওপর ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছেন না। তবে অদৃশ্য কিছু কাজ অনলাইনে হচ্ছে বলে আমরা শুনছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা তো প্রসেসিং ব্যবসা করি। ক্লিয়ারেন্স না করাতে পারলে জমা নেয়া পাসপোর্ট বই ফেরত দিচ্ছি। কিন্তু এই কর্মীদেরই রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা (সবাই না) উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দুই দিন আগেই কর্মীদের অবৈধভাবে বিমানবন্দর দিয়ে ‘বডি কন্ট্রাক্টে’ বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে শুনছি। তাহলে কী দাঁড়াল?