এবারের বিশ্বকাপ দ্রুত গতির নাকি রক্ষণাত্মক

Printed Edition

মীর মোকাম্মেল আহসান

ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ। চার বছর পরপর হওয়া এই মেগা আসরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে ফরোয়ার্ডরা। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা- এই তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে ফরোয়ার্ডের চেয়ে এবার বেশি আলোচনায় ছিলেন গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা। মাঠের খেলায় অতি রক্ষণাত্মক কৌশল ও গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। চলমান বিশ্বকাপে বিতর্কের শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড স্থগিত হওয়ার ঘটনা।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ৩২ ও শেষ ষোলোর খেলা ইতোমধ্যে শেষ করেছে। আসরটি যতই সামনের দিকে এগোচ্ছে, ততই আলোচনায় উঠে আসছে পুরনো বিতর্ক রক্ষণাত্মক ফুটবল, নাকি পাওয়ার ফুটবল? সম্প্রতি শেষ হওয়া কয়েকটি ম্যাচেই দেখা গেছে, আধুনিক ফুটবলে শুধু আক্রমণ কিংবা রক্ষণের ওপর ভর করে জয় ছিনিয়ে মাঠ ছাড়া কঠিন। বরং শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুতগতির আক্রমণ, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সময়ে সুসংগঠিত রক্ষণ- এই তিন সমন্বয়ই এখন সফলতার মূল চাবিকাঠি। তবে এবারের আসরে গোলরক্ষকের চমক ও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে কাউন্টার অ্যাটাকে সফলতার চমক দেখিয়েছে নবাগত দল কেপ ভার্দে।

আলোচনায় গোলরক্ষক ভোজিনহা, ইলয় রোম, আলী রেজা

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডায় চলমান বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৫ জুন ২৬ শতাংশ বল পজিশনে রেখে সবচেয়ে বড় চমক জাগিয়েছিল আফ্রিকার দেশটি। অতি রক্ষণাত্মক ও কাউন্টার অ্যাটাকে নির্ভরশীল দলটি ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্যভাবে রুখে দিয়েছিল। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বকাপের প্রথম আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩৪ শতাংশ বল ধরে রেখে গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ২-২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল তারা। শেষ ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে এশিয়ার শক্তিশালী দল সৌদি আরবের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র’র সুবাদে গ্রুপে কোনো ম্যাচ না জিতেই নকআউটে জায়গা করে নিয়েছিল কেপ ভার্দে।

নকআউটে জায়গা করে নিয়ে কেপ ভার্দে ঝড় তুলেছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। দু’বার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে রীতিমতো কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১২০ মিনিটে। ম্যাচের শুরুতে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ড্যারেয় ডুয়ার্টির গোলে দ্বিতীয়ার্ধের ১৪ মিনিটে তাক লাগিয়ে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দেশটি। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হলে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সিডনি লোপেস ক্যাব্রাল ১০৩ মিনিটে গোল করে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটিকে আবার ম্যাচে ফেরান। সমতায় ফেরার পর যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ গড়াতে যাচ্ছে টাইব্রেকারে। ঠিক সেই মুহূর্তে ডিজনির আত্মঘাতী গোলে আবার এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেখান থেকে আর ম্যাচে ফেরা হলো না কেপ ভার্দের। ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে থেকে বিদায় নিলেও ৩৬ শতাংশ বল পজিশনে রেখে গোলরক্ষকের অতি মানবীয় নৈপুণ্য, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা আর কাউন্টার অ্যাটাকে কেপ ভার্দে সে দিন রীতিমতো নাজেহাল করেছিল আর্জেন্টিনাকে।

পাওয়ার ফুটবল ছিল সেনেগাল-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো-ইংল্যান্ড, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে

বিশ্বকাপে আধুনিক পাওয়ার ফুটবল বলতে শুধু শক্তির প্রদর্শন নয়; উচ্চ গতিতে প্রেসিং, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করার কার্যকর পদ্ধতিও। ম্যাচজুড়ে ক্ষিপ্রতার সাথে খেলার ফলে প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয় এবং গোলের সুযোগও বৃদ্ধি পায়। ইউরোপের অনেক শীর্ষ দল বর্তমানে ফুটবলের এই কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে রক্ষণাত্মক ফুটবলের গুরুত্বও কমেনি। নিজেদের রক্ষণভাগকে শক্তিশালী রেখে সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণে ওঠার কৌশলটি অনেক সময় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও কার্যকর প্রমাণিত হয়।

পাওয়ার ফুটবলের ম্যাচ ছিল শেষ ৩২-এ বেলজিয়াম ও সেনেগালের লড়াইটি। রোমাঞ্চকর ও নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে অবশেষে আফ্রিকার দেশটির হৃদয় ভেঙে পরের রাউন্ডে জায়গা পেয়েছে ইউরোপের দেশটি। অথচ ম্যাচে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনেগালের। তখনো ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে সাদিও মানেরা। কিন্তু শেষ পাঁচ মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের মোড়। রোমেলু লুকাকু ও ইউরি তিলেমান্সের গোলে নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। পরে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে তিলেমান্সের পেনাল্টির গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।

গতির পাশাপাশি শারীরিক শক্তির প্রদর্শনও দেখা গেল এবারের বিশ্বকাপে। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অনেকটা শক্তির খেলা খেলছিল প্যারাগুয়ে। ল্যাটিন দেশটির কোচ গুস্তাভো আলফারোর মন্ত্র ছিল বিরক্ত করে যাও! এই মন্ত্রেই প্রায় আটকে দিয়েছিল ফ্রান্সকে। ৭০ মিনিট পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এই বিশ্বকাপে একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে এগিয়ে চলা ফ্রান্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারল না প্যারাগুয়ে। রক্ষণের একটা ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া হলো। পেনাল্টি থেকে করা কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে উঠল ফ্রান্স।

ছিল রক্ষণাত্মক ফুটবলও

রক্ষণাত্মক কৌশলের কাছে এবার হার মানতে দেখা গেছে অনেক শক্তিশালী ও বড় দলগুলোকেও। শুরুটা হয়েছিল ১৪ জুন কাতার ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে। ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল পজিশনে রেখে ২৬টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রেখে একবার জালের দেখা পায় সুইসরা। তবে রক্ষণাত্মক ফুটবল প্রদর্শনে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতার। অন্য দিকে বিশ্বকাপে আরেক নবাগত দল কুরাসাও। ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারলেও পরের ম্যাচে এনার ভ্যালেন্সিয়ার দেশ ইকুয়েডরকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে বড় চমক জাগিয়েছিল ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটি। অতি রক্ষণাত্মকের পাশাপাশি এই ম্যাচ ড্র’র পেছনে বড় ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক ইলয় রুমের। ১৫টি দুর্দান্ত সেভ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের এই শেষ প্রহরী।

গ্রুপ ‘জি’র ম্যাচে ২২ জুন চমক দেখিয়েছিল ইরান। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩২ শতাংশ বল পজিশনে রেখে ইউরোপের গতির ফুটবল বেলজিয়ামকে গোলরক্ষক আলী রেজার নৈপুণ্যে গোলশূন্য রুখে দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ‘এল’ গ্রুপে ২৪ জুন ১৯৬৬ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য রুখে দিয়েছিল ঘানা। মাত্র ২২ শতাংশ বল পজিশনে রেখে অতি রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বনে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হ্যারি কেন-বেলিংহাম-সাকাদের রুখে দিয়েছিল গোলশূন্যভাবে আফ্রিকার দেশটি। এ দিকে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয় কয়েকটি দল। যেমন গ্রুপ পর্বে ২৬ জুন ইকুয়েডর ও জার্মানির ম্যাচটি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলারদের এ দিন মাঠে অনেকটা নিষ্প্রভ দেখা যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২-১ গোলের জয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছিল ল্যাতিন অঞ্চলের দেশটি।

বিশ্বকাপের চলমান আসরে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল নেদারল্যান্ডস; অথচ সেই দলটির বিপক্ষে ‘এফ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বল পজিশনে পিছিয়ে থেকেও (৩৬ শতাংশ) রক্ষণাত্মক ও কাউন্টার অ্যাটাকে নির্ভর হয়ে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছিল সূর্যোদ্বয়ের দেশ জাপান। ১৬ জুন ‘এইচ’ গ্রুপে চমক দেখিয়েছিল কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে গ্রুপ পর্বে হারানো এশিয়ার দেশ সৌদি আরব। দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল আরব দেশটি। অথচ ৬৬ শতাংশ বল পজিশনে রেখে ২৭ শটের ১০টি লক্ষ্যে রেখেও কেবল একবারই লক্ষ্য ভেদ করতে পেরেছিল দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

রক্ষণাত্মক ফুটবলে অবশেষে নকআউট ম্যাচে জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল ল্যাতিন অঞ্চলের আরেক দেশ প্যারাগুয়ে। পুরো ম্যাচে ২৫ শতাংশ বল দখলে ছিল তাদের। এর মধ্যে গোলের জন্য নেয়া ৭ শটের ৪টি লক্ষ্যে রেখে প্রথম গোলও আদায় করে নেয় হোসে লুইস চিলাভার্টের দেশ। দ্বিতয়ার্ধে কাই হাভার্টের গোলে সমতায় ফিরলেও নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির হৃদয় ভেঙে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল প্যারাগুয়ে।

চলমান আসরে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল ব্রাজিল ও পর্তুগাল। অথচ পাঁচবারের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের অতি রক্ষণাত্মক কৌশল, দ্রুত বল হারানো এবং পরে পুনরুদ্ধার- সব বিভাগেই পিছিয়ে ছিল। ফলে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নেইমার-ভিনিসিয়াসরা। শিরোপার দাবিদার পর্তুগিজদের বিপক্ষে ২৫ শতাংশ বল দখলে রেখে গ্রুপ ‘কে’তে ১৭ জুলাই আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো রুখে দিয়েছিল ১-১ গোলে। ব্রাজিলের কৌশল অবলম্বনে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০তে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগিজদেরও। সেই সাথে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন মরীচিকায় থেকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর।

প্রশ্নবিদ্ধ রেফারির দ্বৈতনীতি

বিশ্বকাপের চলমান আসরে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের বিষয় ছিল লিওনেল মেসির লাল কার্ড না পাওয়া ও একই অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ড পাওয়ার পরও স্থগিত হওয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছেন ইউরোপীয় ফুটবল মহল ও বিভিন্ন ফুটবলব্যক্তিত্ব। এ সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না। ফিফা অবশ্য দাবি করেছে, তাদের শৃঙ্খলা কমিটি স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও নিয়মানুযায়ী কাজ করেছে।

বালোগুনের বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ফোনকল পেয়েছিলাম। তবে ফিফার বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যাই হোক না কেন, ফিফার নিরপেক্ষতা ও প্রতিযোগিতার অখণ্ডতা রক্ষা করে।

বিশ্বকাপে বিতর্ক থাকলেও সামগ্রিক মূল্যায়নে সতর্ক এবং তথ্যনির্ভর অবস্থানই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। পাওয়ার ফুটবলের যুগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, গতি ও মানসিক দৃঢ়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে ভিডিও বিশ্লেষণ, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও দলগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রক্ষণাত্মক ফুটবল ও পাওয়ার ফুটবল- দুই কৌশলেরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। যে দল পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সময়ে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে। সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা ও দলগত সমন্বয়ের সমন্বিত প্রয়োগই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।