দেশে ফিরে মায়ের পাশে তারেক রহমান

Printed Edition
3rd
মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছেন তিনি।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিজি-২০২ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দেশীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যা রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজন করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংবর্ধনাস্থল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে রওনা হন তিনি। গাড়ি বহরের দুই পাশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গাড়ির সামনের অংশে দাঁড়িয়ে ক্ষণিক ক্ষণিক হাত নেড়ে সাড়া দেন তারেক রহমান।

হাসপাতালের গেটে গাড়ি থেকে নামার পর দলের ঊর্ধ্বতন নেতাকর্মীদের সাথে হেঁটে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তিনি হাসপাতালের সীমানার ফাঁক দিয়ে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীদের সাথে হাত মেলান।

এ দিন বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও হাসপাতালে পৌঁছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তারা আগে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসায় যান এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে রওনা হন।

এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১২টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। একই দিন রাত সোয়া ৮টায় তিনি লন্ডনের নিজ বাসা ত্যাগ করেন। এরপর স্ত্রী ও কন্যাকে সাথে নিয়ে রাত সোয়া ১০টায় হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছেন।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দেন, যেখানে লিখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে দেশের মানুষকে একত্র করার আহ্বান জানান। বিএনপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে নতুন রাজনৈতিক আশা হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন, রাজনৈতিক চাপ, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের পরও তিনি দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব ও ঐক্য পুনঃস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর তারেক রহমান মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সময় কাটান। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে দেশীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এখন তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ, কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কর্মীদের সাথে তার সংযোগ ইতোমধ্যেই দৃঢ়ভাবে গড়ে উঠেছে।

এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং বাংলাদেশের প্রবাসী নেতা ও নেত্রীদের দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্গঠনের প্রতীক।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান দেশের মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দলীয় ঐক্য রক্ষা ও রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। তার প্রত্যাবর্তন কেবল দলের মধ্যে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও প্রভাবিত করবে।

দীর্ঘকাল বিদেশে থাকা, প্রহসনমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতন, বাধ্যতামূলক বিচ্ছিন্নতা- এসবের মধ্যেও তারেক রহমান দলের দায়িত্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি আবারও মধ্যপন্থী, ইনক্লুসিভ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের কার্যক্রম দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা ও শক্তি যোগ করবে।