২০২৫ সালের প্রধান আন্তর্জাতিক ঘটনা
যুদ্ধ-সঙ্ঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের বছর
Printed Edition
নয়া দিগন্ত আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধ, সামরিক অভ্যুত্থান, ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সঙ্কট- এই চার অভিধাতেই সবচেয়ে যথার্থভাবে চিহ্নিত করা যায় বিদায়ী ২০২৫ সালকে। বছরজুড়ে পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব, যুদ্ধবিরতির ব্যর্থতা, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা এবং তরুণদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ বিশ্ব রাজনীতি ও মানবিক বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত কয়েকটি প্রধান ঘটনার সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রাসঙ্গিক বিবরণ তুলে ধরা হলো।
আফ্রিকায় সামরিক অভ্যুত্থান: ‘ক্যু বেল্ট’-এর বিস্তার
২০২৫ সালের শেষ ভাগে আফ্রিকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামরিক অভ্যুত্থান আবার কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলে একের পর এক সফল ও ব্যর্থ অভ্যুত্থান গোটা মহাদেশকে নতুন করে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়।
চলতি বছরে মাদাগাস্কার ও গিনি-বিসাউয়ে নির্বাচিত সরকার সামরিক হস্তক্ষেপে উৎখাত হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে বেনিনে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানো হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ব্যর্থ হয়। এর আগে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজার, গিনি ও গ্যাবনে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে অন্তত আটটি আফ্রিকান দেশ সরাসরি সামরিক শাসনের অধীনে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ‘ক্যু বেল্ট’ বা অভ্যুত্থান বলয় হিসেবে বর্ণনা করছেন, যার কেন্দ্র মূলত ফরাসিভাষী সাহেল অঞ্চল। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাকি সিলিয়ার্সের মতে, ব্যাপক যুব বেকারত্ব, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এই অভ্যুত্থান প্রবণতার মূল চালিকাশক্তি। নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও ক্ষমতা দীর্ঘায়নের চেষ্টা অনেক দেশে জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে, যার সুযোগ নিচ্ছে সেনাবাহিনী।
নেপালে জেন-জি আন্দোলন : ডিজিটাল দমন ও সরকার পতন
দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালের সবচেয়ে নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা ঘটে নেপালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারির পর সেপ্টেম্বর মাসে দেশটি ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়ে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে জেনারেশন জেড তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হয় সরকারবিরোধী আন্দোলন।
৪ সেপ্টেম্বর সরকার ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ ও এক্সসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। পার্লামেন্ট ভবন ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। টানা সংঘর্ষের মুখে ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা সহিংসতায় অন্তত ৭৪ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। পরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী সরকারপ্রধান। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের ঘটনা দেখিয়েছে যে ডিজিটাল পরিসরে মতপ্রকাশ দমন করলে তা তরুণদের নেতৃত্বে বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
২০২৬-এ কি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান?
ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সঙ্ঘাত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২৬ সালে শেষ হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। ইউক্রেনীয় সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণ শান্তির চেয়ে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাই বেশি।
ইউক্রেনের সাবেক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইহোর রোমানেনকো মনে করেন, ১৯৯১ সালের সীমানা পুনরুদ্ধার ছাড়া প্রকৃত শান্তি সম্ভব নয়। অন্য দিকে বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শান্তিচুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, তবে এর বিনিময়ে কিয়েভকে আঞ্চলিক ছাড় দিতে হতে পারে। যুদ্ধক্লান্ত সাধারণ ইউক্রেনীয়দের মধ্যে আপসের প্রবণতাও বাড়ছে।
পহেলগাম হামলা ও ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা
২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক সঙ্কট সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এর জেরে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় ইসলামাবাদও।
চার দিন ধরে চলা এই উত্তেজনাকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সঙ্কট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।
গাজা শান্তি আলোচনা : আশার বদলে অনিশ্চয়তা
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলের নিয়মিত হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হন। মানবিক সহায়তা প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি আরো তীব্র হয়।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা চললেও ইসরাইল-হামাস অনাস্থা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপড়েনে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে গাজা প্রশ্নে হয় সীমিত অগ্রগতি হবে, নয়তো ‘নামমাত্র যুদ্ধবিরতি’র মধ্যেই সঙ্কট দীর্ঘায়িত হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল দেখিয়েছে শান্তি কেবল চুক্তির মাধ্যমে নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই সম্ভব। অন্যথায় যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে, আর বিশ্ব বারবার ফিরে যায় অস্থিরতার বৃত্তে।
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ : মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সঙ্ঘাতের নতুন অধ্যায়
২০২৫ সালে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সঙ্ঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ ও পরোক্ষ সংঘর্ষের পর ১৩ জুন ইসরাইল ‘রাইজিং লায়ন’ অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এক রাতেই প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর করে দেয়া হয়।
এর জবাবে ইরান শুরু করে ‘অপারেশন অনেস্ট প্রমিস-৩’। ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে ইরান প্রায় ৫৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজারের বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। ইসরাইল ও তার মিত্ররা বেশির ভাগ হামলা প্রতিহত করলেও তেলআবিব, হাইফা ও বিরশেভায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরাইলে অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নিহত ও কয়েক হাজার আহত হন। অন্য দিকে ইরানে সরকারি হিসাবে নিহত হন ৬১০ জন এবং আহত প্রায় ৪ হাজার ৭০০ জন।
যুদ্ধের সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়েছে, যদিও পরবর্তী গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সেই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও আগাম সতর্কতার কারণে প্রাণহানি হয়নি। ২৪ জুন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে ১২ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটে।
যুদ্ধ থামলেও বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতি এখন ‘নো ওয়ার, নো পিস’ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান যদি আবার উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে, তাহলে আগামী এক বছরের মধ্যেই নতুন করে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ইসরাইল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, অস্ত্রীকরণ বা হারিয়ে যাওয়া ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারের যেকোনো প্রচেষ্টাকেই ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থায় ২০২৫ সালের এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি : বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেন। তার প্রশাসন দাবি করে, এই নীতি মার্কিন উৎপাদন খাত শক্তিশালী করবে ও কর্মসংস্থান বাড়াবে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।
চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর পাশাপাশি ভারত ও ব্রাজিলের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। এর ফলে পাল্টা শুল্কের আশঙ্কা বাড়ে, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্বিন্যাসের চাপ সৃষ্টি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এর প্রভাব স্পষ্ট। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ শতাংশে দাঁড়ায়। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং বড় খুচরা বিক্রেতারা শুল্কের বোঝা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপাতে শুরু করে। আইনি ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করে জানিয়েছে, এই শুল্কনীতি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩.২ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন : লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা
২০২৫ সালে ভেনিজুয়েলা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর চাপের মুখে পড়ে। ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি নিকোলাস মাদুরোর পদত্যাগ দাবি করেন এবং ভেনিজুয়েলার তেল রফতানির ওপর ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন করে, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ও হাজার হাজার সেনা রয়েছে।
অবরোধের ফলে ভেনিজুয়েলার তেলবাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। আন্তর্জাতিক নৌসীমায় মার্কিন অভিযানে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ট্রাম্প প্রশাসন ‘মাটির ওপর অভিযান’-এর হুমকিও দেয়, যা লাতিন আমেরিকাজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
ভেনিজুয়েলা এই অবরোধকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ আখ্যা দেয়। চীন ও রাশিয়া মাদুরোর পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সঙ্ঘাত ২০২৬ সালে একটি নতুন স্নায়ুযুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যেখানে লাতিন আমেরিকা পরাশক্তিদের দ্বন্দ্বের নতুন মঞ্চে পরিণত হবে।
তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ অস্ত্র বিক্রি
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়, যা ইতিহাসের সর্ববৃহৎ প্যাকেজগুলোর একটি। এতে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। ওয়াশিংটনের মতে, এটি তাইওয়ানের ‘অ্যাসিমেট্রিক ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি’ শক্তিশালী করবে।
চীন এই পদক্ষেপকে ‘ওয়ান চায়না নীতি’র লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি প্রতিরক্ষা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্র বিক্রি পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা বাড়াবে এবং চীন-তাইওয়ান সম্পর্ককে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
লোহিত সাগরে হামলা : বৈশ্বিক বাণিজ্যের শিরায় চাপ
লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনে জাহাজ হামলা ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়, ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই বেড়ে যায়।
প্রতি বছর প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য এই রুটে পরিবহন হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি আলোচনা চললেও বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর এখনো একটি উচ্চঝুঁকির অঞ্চল হিসেবেই রয়ে গেছে।
ইরানইসরাইল যুদ্ধ থেকে শুরু করে লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ার উত্তেজনা ২০২৫ সাল স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, বিশ্ব রাজনীতি ক্রমেই বহুমুখী সঙ্ঘাত ও অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ও কূটনীতি থাকলেও গভীর কাঠামোগত দ্বন্দ্ব অমীমাংসিত থাকায় ২০২৬ সাল আরো অস্থির হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।