তিন জেলায় প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বাসহ ৩ নারীর
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বাসহ তিন নারী নিহত হয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেল আরোহী এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে ঢাকাগামী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে শেফালী বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হন। তিনি সাহেবগঞ্জ গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী। জানা গেছে , রেজাউল করিম স্ত্রী শেফালীকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে গোবিন্দগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন। তারা কাটা মোড় নামক এলাকায় পৌঁছলে পিছন থেকে আসা মালবাহী ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট ১৩-৪৫২৫) চাপা দিলে শেফালী বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। নিহত শেফালী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় মন্দিরে পূজা ও অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইজিবাইক উল্টে লিলু রানী শীল (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় মিনু দে (৭৫) ও আনিমা দে (৩০) নামে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের নেপচুন চা বাগানের ৭ নম্বর সেকশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিলু রানী শীল দাঁতমারা ইউনিয়নের তারাখোঁ দক্ষিণ হিন্দুপাড়ার মিলন শীলের স্ত্রী। আহত দুইজনের বাড়িও একই এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দুইটার দিকে ইস্পাহানি গ্রুপের মালিকানাধীন নেপচুন চা বাগানের বৈরাগী আশ্রম মন্দিরে এক শিশুর অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান শেষে তারা ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ ইজিবাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই লিলু রানী শীলের মৃত্যু হয়। আহত দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: মনোজ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আহত দুইজনকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মিনু দে-কে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আনিমা দে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি, তবে লাশ এখনো হাসপাতালে আনা হয়নি।
সাঘাটা (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, সাঘাটা-চিনিরপটল রোডে ওয়াপদা বাঁধের দক্ষিণ পাশে ইদ্রিস আলী মাস্টারের বাড়ির মোড় নামক স্থানে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ও অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাবিনা (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী এনজিও কর্মী মাহমুদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। গতকাল দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, কুয়াশা ও প্রচণ্ড শীতের মাঝে মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল চালক ও অটোভ্যান চালক কেউ কাউকে দেখতে পারেনি। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আহত দুইজনকেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান মহিলা মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণ হওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই সাবিনা মারা গেছেন।
তিনি চিনিরপটল এলাকার শাহ আলমের স্ত্রী। টিসিবির তেল ডাল চাল নেয়ার জন্য ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছিলেন। আর মোটরসাইকেল চালক চিনিরপটলে কিস্তি আদায়ের জন্য যাচ্ছিলেন বলে তার সহকর্মীরা। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাটহাজারীতে নিহত ২
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন-মোহাম্মদ সরোয়ার উদ্দীন (৩৮) ও স্বরবিন্দু (৭৪)।
নিহত মোহাম্মদ সরোয়ার উদ্দীন উপজেলার মেখল ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার তোরাফ উদ্দীন বাড়ির মৃত শাহ আলমের ছেলে। অন্য দিকে নিহত স্বরবিন্দু ধলই ইউনিয়নের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হাটহাজারী পৌরসভার বাসস্টেশন এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই সন্তানের জনক সরোয়ার উদ্দীন গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে সোমবার বিকেলে ধলই ইউনিয়নের এনায়েতপুরের কালিবাড়ি এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন বৃদ্ধ স্বরবিন্দু। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।