সেশনজটের কবলেই কি যাচ্ছে মাভাবিপ্রবি?

Printed Edition
3rd-5
সেশনজটের কবলেই কি যাচ্ছে মাভাবিপ্রবি?

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো একের পর এক বাধার মুখে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশন জটের শঙ্কা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়। বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সমন্বয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষার রুটিন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

কিন্তু পরীক্ষার মাঝপথেই শুরু হয় নানা অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণ ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস বন্ধের জন্য প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তুশার আহমেদ। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

পরে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গ তুলে তুশার আহমেদ এক ফেসবুক পোস্টে জানান, সবার শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা থাকে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, এ ধরনের ঘোষণার ফলে চলমান একাডেমিক কার্যক্রম আরো অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং পরে সেগুলো পুনঃনির্ধারণ করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ৮ মার্চ হঠাৎ সরকারি সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে পরীক্ষাগুলো দ্বিতীয়বারের মতো আবার পিছিয়ে যায়। ফলে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখনো স্পষ্টভাবে জানেন না কবে নাগাদ এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় সেশন জটের আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চলমান সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ করা এবং নতুন সেমিস্টারের একাডেমিক ক্যালেন্ডার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ১০ মার্চ সকল ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সভাটি করা সম্ভব হয়নি। ফলে কবে নাগাদ কী হবে তা সুনিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এ মুহূর্তে। তিনি আরো বলেন, “কয়েকটি বিভাগের তিন-চারটি করে পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। সেশন জটের সম্ভাবনা কিছুটা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর দ্রুত ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করা গেলে এর প্রভাব খুব বেশি নাও হতে পারে।”