মুফতি আবু তাহের নদভী

Printed Edition

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও শিক্ষাবিদ মাওলানা মুফতি আবু তাহের নদভী (৬৬) ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন মুফতি আবু তাহের। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য ছাত্র ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমের নামাজে জানাজা একই দিন রাত ১১টা ৩০ মিনিটে পটিয়া মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজা শেষে মাদরাসার নিজস্ব কবরস্থান ‘মাকবারায়ে আজিজিয়া’তে তাকে দাফন করা হয়। তার ইন্তেকালের খবরে আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

মুফতি আবু তাহের নদভী ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর নিচিন্তাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফটিকছড়ি নানুপুর ও পটিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। ১৯৮০ সালে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত ও পাকিস্তান সফর করেন। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস এবং নদওয়াতুল উলামা থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি পটিয়া মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘকাল হাদিস ও আরবি সাহিত্যের অধ্যাপনা করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া তিনি আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির (সহসভাপতি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ দিকে মুফতি আবু তাহের নদভীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘তার ইন্তেকালে দেশ একজন দূরদর্শী আলেম ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষানায়ককে হারালো।’ নেতৃদ্বয় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা