৩ এপ্রিল আসছে আরো ৭০ হাজার টন
১ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ২টি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তার মাঝে বিকল্প উৎস হতে সংগৃহীত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট হতে সংগৃহীত এলএনজিবাহী দু’টি জাহাজ ঈদের আগে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে এরই মধ্যে খালাস করে ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে এক লাখ ২০ হাজার টনের বেশি এলএনজি নিয়ে ২টি ট্যাংকার জাহাজ গত দুই দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বোঝাই আরেকটি ট্যাংকার আগামী ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে আমদানিকৃত এলএনজির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। কিন্তু ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের আক্রমণের পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে দুটি এলএনজি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তা আসেনি। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার হরমুজ পাড়ি দিতে না পেরে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি বোঝাই অবস্থায় এখনো আটকে আছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার স্পট মার্কেট হতে এলএনজি সংগ্রহে মনযোগী হয়। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৮টি এলএনজিবাহী ট্যাংকার দেশে এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে এলএনজি নিয়ে তিনটি ট্যাংকার আসছে। এর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে, বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনটি ট্যাংকারে মোট প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ নামের ট্যাংকার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার বন্দরে পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আসা ট্যাংকার ‘নিউ ব্রেভ’।
নিউ ব্রেভ এবং সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস ট্যাংকার দুটির স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম মো: নুরুল আলম বাহার নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, গতকাল প্রায় ৬০ হাজার মে.টন এলএনজি নিয়ে একটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছেছে এবং আগামীকাল রোববার থেকে খালাস শুরু হবে। আর একটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে ৩ এপ্রিল।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানি করে থাকে। য্দ্ধু পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজির সরবরাহ চালু থাকায় আপাতত সঙ্কটের সম্ভাবনা তেমন নেই বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।