সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের ইন্তেকাল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ আর নেই। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) ছিলেন শফিক আহমেদ।

তার ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক বলেন, বাবা বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। আমরা গত শনিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। এখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার চলে গেলেন। আমার বোন দেশের বাইরে মালয়েশিয়ায় আছেন। তিনি আসার পর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হবে।

১৯৩৭ সালের ১৬ জুলাই কুমিল্লা জেলায় শফিক আহমেদের জন্ম। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। এরপর ১৯৬৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে এলএলএম করেন। পরে তিনি লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল হন।

১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শফিক আহমেদ। ১৯৭৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঢাকার সিটি ল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন।

শফিক আহমেদ ১৯৬৭ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৯-২০০০ এবং ২০০৮-২০০৯ মেয়াদে তিনি দুই দফায় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে মাহফুজা খানমের সাথে শফিক আহমেদের বিয়ে হয়। ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম ২০২৫ সালে মারা যান।

এই দম্পতি দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। বড় ছেলে ও মেয়ে পেশায় চিকিৎসক। ছোট ছেলে মাহবুব শফিক একজন আইনজীবী।

ব্যারিস্টার শফিক আহমদের দাফন আগামীকাল ১৩ এপ্রিল ২০২৬। ইন্দিরা রোডের বাড়িতে লাশ থাকবে ১১টা পর্যন্ত। বেলা ১১টায় ইন্দিরা রোড খেলার মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা। বেলা দেড়টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। বেলা ৩-৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল ৫টায় আজিমপুর কবরস্থানে জীবনসঙ্গী অধ্যাপক মাহফুজা খানমের পাশে দাফন।