বালাদ বিস্ট ২০২৬

জেদ্দায় বিশ্বসেরা সঙ্গীতের মহামিলনমেলা

Printed Edition
bino-2
জেদ্দায় বিশ্বসেরা সঙ্গীতের মহামিলনমেলা

বিনোদন প্রতিবেদক

জেদ্দার ঐতিহাসিক ও ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আল-বালাদ গত সপ্তাহান্তে এক অনন্য সাংস্কৃতিক রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। সৌদি মিউজিক প্ল্যাটফর্ম ‘এমডিএল-বিস্ট’ আয়োজিত ‘বালাদ বিস্ট’ উৎসবের চতুর্থ আসরটি দুই রাতব্যাপী হাজার হাজার সঙ্গীতপ্রেমীর উপস্থিতিতে এক জাদুকরি আবহে শেষ হলো। কয়েক শ’ বছরের পুরনো স্থাপত্য আর আধুনিক আলোকসজ্জার মেলবন্ধনে পুরো এলাকাটি একটি উন্মুক্ত শিল্পকলায় পরিণত হয়েছিল। উৎসবের চারটি ভিন্ন মঞ্চে পারফর্ম করেন ৭০ জনেরও বেশি স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শিল্পী, যা এই প্রাচীন শহরকে ইলেকট্রনিক, হিপহপ এবং গ্লোবাল সাউন্ডের এক বৈচিত্র্যময় মহাসমুদ্রে পরিণত করেছিল।

উদ্বোধনী রাতে মূল আকর্ষণ ছিলেন মার্কিন র‌্যাপার প্লেবয় কার্টি, যিনি প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের মাটিতে পারফর্ম করে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেন। একই রাতে ডাচ ডিজে আলেসো এবং বসনিয়ান-জার্মান ডিজে সোলোমুনের পরিবেশনা উপস্থিত হাজারো তরুণকে সুরের তালে নাচিয়ে তোলে। উৎসবের দ্বিতীয় রাতে মঞ্চ মাতান ফরাসি-হাইতিয়ান গায়িকা নাইকা এবং বিশ্বখ্যাত রেগে লিজেন্ড শ্যাগি। নিজের জনপ্রিয় সব হিট গান পরিবেশনের পাশাপাশি শ্যাগি জানান, সৌদি আরবে পারফর্ম করা নিয়ে বাইরের বিশ্বের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে; কিন্তু এখানকার স্বাধীনতা এবং মানুষের আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে। এছাড়া টাইগা, ফ্রাঙ্কি রিজার্ডো এবং পাওসার মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও দর্শকদের দারুণ এক সময় উপহার দেন।

‘এমডিএল-বিস্ট’-এর প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা আহমদ আল-আম্মারি, যিনি ডিজে বালু নামেই বেশি পরিচিত, এই আয়োজনকে একটি ‘সাংস্কৃতিক নবজাগরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, হেরিটেজ জোনের মতো একটি সংবেদনশীল এবং ঘিঞ্জি এলাকায় এত বড় লজিস্টিক আয়োজন করা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সরু গলি আর পুরনো কাঠামোর সাথে মানিয়ে নিয়ে ড্যান্স ফ্লোর তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রথম বছর বৃষ্টির কারণে একটি বড় স্কোয়ার তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে ‘সুক স্টেজ’ স্থানান্তর করতে হয়েছিল, যা এখন উৎসবের অন্যতম জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তার মতে, আল-বালাদ এলাকাটি নিজেই এতটাই সৃজনশীল যে এর প্রতিটি কোণা থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

উৎসবের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল সৌদি আরবের নিজস্ব শিল্পীদের জয়জয়কার। স্থানীয় ইলেকট্রনিক জুটি ‘ডিশ ড্যাশ’ এবং ডিজে কসমিক্যাট থেকে শুরু করে বিনাইল মোড ও মোয়ায়েদদের মতো শিল্পীরা বিশ্বখ্যাত তারকাদের সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করেন। ডিশ ড্যাশ ভ্রাতৃদ্বয় জানান, ‘এমডিএল-বিস্ট’-এর মতো প্ল্যাটফর্মের কারণেই আজ তারা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারফর্ম করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গীত অঙ্গন এখন একটি ‘রহস্যময় ও বৈচিত্র্যময়’ পর্যায় অতিক্রম করছে, যেখানে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটছে। ঐতিহ্যবাহী দালানকোঠার দেয়ালে থ্রি-ডি ম্যাপিং আর আধুনিক স্পিকারের শক্তিশালী বেইস- সব মিলিয়ে ‘বালাদ বিস্ট’ কেবল একটি কনসার্ট নয়; বরং সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছিল।