কুয়াশা ভেজা আবহাওয়ায় জবুথবু সারা দিন
Printed Edition
হামিম উল কবির
গত কয়েকদিন ধরে তীব্র কুয়াশা ভেজা আবহাওয়ায় সময় কাটছে জবুথবু অবস্থায়। কুয়াশার কারণে তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন না হলেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
গতকাল দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ ছিল না। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে দিনের বেলায়ও ঠাণ্ডার অনুভূতি বাড়ে। সাধারণ মানুষ শীতকে ‘অসহ্য’ বলে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে রাতের দীর্ঘ ঠাণ্ডার পর সকালে সূর্য বের হওয়ার অপেক্ষা করলেও কুয়াশায় ঢাকা আকাশে আলো পৌঁছায় না। ফলে পানি এতটা ঠাণ্ডা হয়ে থাকে যে, টিউবওয়েল বা নদী থেকে পানি নিয়ে হাত-মুখ ধুতেও কষ্ট হয়। শীতের মধ্যে খেটে খাওয়া মানুষ সকাল থেকেই মাঠে বা শহরে কাজে নিযুক্ত থাকে। অন্য দিকে শহরাঞ্চলের ফুটপাথে কিছু মানুষ রাত পার করছে শীতের তীব্র হাওয়ায়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে শীতবস্ত্র বিতরণ কম।
শীতের কারণে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া শীতকালে সক্রিয় থাকে। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, গরম খাবার ও পানীয় গ্রহণ, গোসল গরম পানিতে করা এবং মাথা ও গলা ঢেকে রাখা প্রয়োজন।
শীতবস্ত্রের বাজারে ক্রেতা ও দাম দুটোই বেড়েছে। যেটি শীতের শুরুতে ১০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন একই বস্ত্র বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। নিম্নআয়ের মানুষ পরিবারিক ব্যয় কমিয়ে হলেও সদস্যদের জন্য শীতবস্ত্র কিনছেন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কুয়াশা কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ কারণে নয়, বরং বিদেশ থেকেও আসে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও বাতাসের আর্দ্রতার কারণে কুয়াশার তীব্রতা আরো বেড়ে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবারও দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই। তবে সারা দিন ভেজা অনুভূতি থাকবে।
ফসলিদের জন্য আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছে, তীব্র শীতে বোরো ধানের চারা রাতের বেলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। সকালে সূর্য উঠলে তা সরিয়ে দিতে হবে। রাতে ঢেকে রাখলে কোল্ড ইনজুরি থেকে চারা রক্ষা পায়, দিনে অতিরিক্ত ঢেকে রাখলে চারা ভালো থাকে না।
কুয়াশা হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প ক্ষুদ্র পানি কণায় পরিণত হলে মাটির কাছাকাছি কুয়াশা সৃষ্টি হয়। দিনের তাপে বাষ্প উড়ে যায়, রাতের তাপ কমে গেলে পানি কণায় পরিণত হয়। কুয়াশার সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, ফলে কাপড় শুকাতে দেরি হয়। ঢাকায় গতকাল বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ।