ভেরিফিকেশন ফি জটিলতায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্নভঙ্গ, ঢাবি ছাত্রীর সমাধান নিয়ে ধোঁয়াশা

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক ভর্তিসংক্রান্ত ভেরিফিকেশন (যাচাইকরণ) ফি নিয়ে এক অদ্ভুত কাঠামোগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয়ের অভাবে এ ফি এখন শিক্ষার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাবির এমন এক জটিলতার বলি হয়ে ইউরোপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারিয়েছেন এক নারী শিক্ষার্থী। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম জিন্নিয়া তাসনিম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি সুইডেনের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার সেই আবেদনগুলো শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সুইডেনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভেরিফিকেশন ফি পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ই-মেইলের মাধ্যমে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের কোনো যাচাইকরণ ফি তারা বহন করে না।

জিন্নিয়ার এ ভোগান্তি শুরু হয় বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে। গত ২২ ডিসেম্বর জরুরি ভিত্তিতে ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে তিনি দুই হাজার ৮০০ টাকা জমা দেন। এরপরও তাকে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দফতরে কর্মীদের অনুপস্থিতি ও অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে তাকে বেশ কয়েকদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাটেস্টেশন ফিসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে তার। দফতরে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ তথ্য তাকে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হতাশা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জিন্নিয়া তাসনিম বলেন, আমাকে আগে জানানো হয়নি যে, এ ধরনের শর্ত রয়েছে। আমি সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যে ফি চাওয়া হয়েছে আমি সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছি। আমি কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাগত জটিলতার কারণে উচ্চশিক্ষার এমন সুযোগটি হারাতে হয়েছে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা সমাধান দেয়া হয়নি। তবে ঢাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশি শামস উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং রোববার এ নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেবেন।

তিনি বলেন, ট্রান্সক্রিপ্ট ও ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নির্ধারণ করে থাকে এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি প্রক্রিয়া। তবে কোন দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে কী ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এর আগে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে, এ ধরনের সেবায় নির্ধারিত চার্জ রয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি আরো সহজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার সাথে একাধিক দফতর যুক্ত থাকে। একাডেমিক শাখা ‘শিক্ষা-১’ এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরের ট্রান্সক্রিপ্ট শাখা আলাদাভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। দুই দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিক সমন্বয়ের অভাবেই মূলত এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এমন অদ্ভুত জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুক অন্যান্য শিক্ষার্থীর মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে।