ভারতের সাথে আমরা সম্পর্ক ভালো রাখতে চাই : অর্থ উপদেষ্টা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ ভারতের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভারতের সাথে আমরা সম্পর্ক অবশ্যই ভালো রাখতে চাই। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা উদ্যোগ নিচ্ছেন। সব কিছু তো আর মিডিয়ার সামনে বলা যায় না। তবে তাদের সাথে সম্পর্ক আমাদের খারাপ তেমন কিছু হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দিল্লিতে আমাদের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লার সাথে আমি কথা বলেছি, ওকে আমি আগে থেকেই চিনি। বাইরে যা আসছে আসলে তেমন কিছু হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টার তো বন্ধুবান্ধব আছে, সেটা ভারতের সাথে না, অন্যান্য দেশ, যাদের সাথে ভারতের সম্পর্ক আছে তাদের সাথে কথা হয়েছে।
ভারতের সাথে বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখতে হবে। কূটনৈতিক বিষয়ে অনেক স্পর্শকাতরতা রয়েছে। এখন যদি আমরা ভারতে থেকে চাল না আনি, সেটি যদি ভিয়েতনাম থেকে আনি তবে সেখানে কেজি প্রতি ১০ টাকা করে বেশি লাগবে। তা হলে কেন আমরা ভারত থেকে আনবো না। প্রতিযোগিতামূলক দামে পাচ্ছি বলে আমরা সেখান থেকে আনছি।
তিনি বলেন, তাদের সাথে সম্পর্ক তো ভালো হবে। চাল আনছি শুনলেও তো ওরা তো কাল খুশি হবে। তিনি বলেন, রাজনীতি ও কূটনীতি রেটরিক বেশি চলে। আমি আশাবাদী এটি বেশি দিন চলবে না। এই জন্য আমি সেখান থেকে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছি। এর আগে সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল।একটু দেরি হয়ে গেছে অনুমতি দিতে। ভারত তাদের এখানে ৫ টাকা ১০ টাকা (কেজি) ও বিক্রি করতে পারে না।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা ভারতের সাথে সম্পর্ক ভালো করতে আউটমোস্ট চেষ্টা করছি। তা না হলে ওদের শাস্তি দেয়ার জন্য অন্য দেশ থেকে ১০ টাকা বেশি দিয়ে চাল আনতাম।
ভারত ও পাকিস্তান থেকে কেনা হচ্ছে এক লাখ টন চাল : এ দিকে, গতকালের বৈঠকে, সরকার ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া বাজারে আতপ চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আরো আতপ চাল আনা হবে। একই সাথে পাকিস্তান থেকেও ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। এই চাল জি-টু-জি বা সরকারি পর্যায়ে আনা হবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাইরে চালের দাম কিন্তু বাড়ছে। কারণ, চীন প্রচুর চাল কিনছে। ওদের চাহিদা বেশি। ওরা মূলত ভিয়েতনাম থেকে কিনছে। এটা কিছুটা প্রভাব ফেলছে। তবু এবার আমাদের ৫০ হাজার টন (চালের দাম) গতবারের চেয়ে একটু কম। এটা আমাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা মরক্কো থেকে সার নিয়ে আসছি- ৯০ হাজার টন টিএসপি। আরো ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার আসবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভবনের জন্য ১০৫ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছি। স্থানীয় সরকারের চারটি রাস্তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের ১৯টি সাবস্টেশনের বিষয় আছে, যার সবগুলোই ময়মনসিংহে। আর আমরা ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আনব। আমরা এখন থেকেই রোজার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অনেক রাইস ব্র্যান অয়েল আসবে, যা তুষ থেকে তৈরি হয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের ক্যানবেরাতে দূতাবাসের জন্য একটি ভবন হবে। অস্ট্রেলিয়া খুব কঠোর সময়সীমা (টাইম লিমিট) দিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে কাজ না করলে তারা অনুমতি প্রত্যাহার করে নেবে।